জিপিএস কি ? জিপিএস কিভাবে কাজ করে ?

 


জিপিএস কি ? জিপিএস (GPS) কি কি কাজে ব্যবহার হয় ?

 জিপিএস এই নামটা প্রায় আপনারা প্রত্যেকে শুনেছেন। এবং দৈনন্দিন জীবনে আপনারা জিপিএস অনেকেই ব্যবহার করেন। যেমন ধরুন কোন একটি অচেনা জায়গায় যাওয়ার জন্য লোকেশন অন করে জি পি এস ব্যবহার করে কিন্তু আপনারা সেখানে চলে যেতে পারেন। বর্তমানকালে গোটা বিশ্ব জি পি এস নির্ভর, এর কারণে মূলত গোটা বিশ্ব হাতের মুঠো চলে এসেছে ।


জিপিএস কাকে বলে?

জিপিএস এর অর্থ হলো, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম। যে ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কোনো স্থান, রাস্তাঘাটের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায় তাকে জিপিএস বলে।

জিপিএস কি ?

GPS কে Global positioning system বলা হয়। এটা হলো গ্লোবাল ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে বলতে পারি।

তাছাড়া, আমরা লোকেশন এর সাথে জিপিএস এর মাধ্যমে গতি-বেগ ও সময়ের সিস্ক্রোনাইজেশন এর বিষয়ে জানতে পারি। GPS স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থান, ঠিকানা, রাস্তা দেখিয়ে দিতে পারে।

এই জিপিএস বর্তমানে অনেক জিনিসে ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্মার্টফোন, ঘড়ি, বাইক, ঘর, গাড়ি ইত্যাদি। এটা মূলত কাজ করে trilateration নামক একটি প্রযুক্তির সাহায্যে

এই trilateration প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সিগনাল (signal) গুলোকে satellite এর মাধ্যমে সহজে গ্রহন করে নেয়। যার ফলে সহজে আমরা সেই লোকেশনের তথ্য খুঁজে পায়।

GPS এর পূর্ণরূপ কি?

GPS এর পূর্ণরূপ হলো Global positioning system. আর বাংলাতে বলা হয়, গ্লোবাল  পজিশনিং সিস্টেম।

জিপিএস এর ইতিহাস

১৯৭০ দশকের শুরুর দিকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রযুক্তি উদ্ভাবিত কররেন। প্রথমে এটার ব্যবহার করতো শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীরা। পরে জিপিএস কে জনসাধারণের ব্যবহারে জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এটা একটি কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। জিপিএস যেকোনো খারাপ আবহাওয়াতে পৃথীবির চলমান সময়ের তথ্য সরবরাহ করতে পারে। এটা অনেকটা একমুখী ব্যবস্থা বলা যেতে পারে। কারণ, এটার মাধ্যমে ব্যবহারকারীগণ উপগ্রহ থেকে প্রেরিত শুধুমাত্র গ্রহণ করতে পারে।

১৯৮৩ সালের পরে U.S Government এর নির্দেশ অনুসারে জিপিএস প্রযুক্তিকে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।

আশাকরি, জিপিএস এর ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন।

জিপিএস কীভাবে কাজ করে?

আপনার ফোনে যে জিপিএস চিপটি আছে সেটা হচ্ছে জিপিএস সিগন্যাল রিসিভার। এটা জিপিএস স্যাটেলাইট থেকে আগত সিগন্যাল ধরতে পারে। এই রিসিভার চিপ কোনো তথ্য ট্রান্সমিট করে না বা স্যাটেলাইটের নিকট প্রেরণ করেনা।

শুরুতে যে ২৪টি স্যাটেলাইটের কথা বলেছিলাম, ঐ স্যাটেলাইটগুলো আসলে দিনে ২৪ ঘন্টা আর সপ্তাহের সাত দিনই এক ধরনের রেডিও সিগন্যাল ট্রান্সমিট করতে থাকে। সেই সিগন্যাল ধরার ক্ষমতা জিপিএস চিপ এর মাঝে আছে যা আপনার স্মার্টফোন কিংবা কার ট্র্যাকারে থাকে। আজকাল অবশ্য জিপিএস চিপ স্মার্টওয়াচ এমনকি চাবির রিংয়েও থাকে।

জিপিএস স্যাটেলাইটগুলোতে এটমিক ক্লক লাগানো থাকে যা দিনের পর দিন ধরে খুবই সূক্ষ্ম সময় দেয়। আর আপনার ফোনে তো একটা ঘড়ি আছেই। স্যাটেলাইটগুলো যে সিগন্যাল পাঠায় তাতে মূলত সিগন্যালটি সেন্ড করার সময়কার সময় থাকে। 

আপনার ফোনটি প্রাপ্ত সিগন্যালটির উৎপন্ন হওয়ার সময় আর আপনার ফোনটি যখন সেই সিগন্যালটি রিসিভ করেছে তার ব্যবধান থেকে ঐ স্যাটেলাইট আর আপনার ফোনের মধ্যকার প্রকৃত দূরত্ব হিসেব করে ফেলে। এই দূরত্ব থেকেই মূলত জিপিএস আপনার অবস্থান নির্ধারন করে।

কিন্তু এখানে একটা সমস্যা আছে। সমস্যাটা হলো, আপনি একটা জিনিসের সাথে আরেকটা জিনিসের দূরত্ব দিয়ে দ্বিতীয় জিনিসের অবস্থান নির্ণয় করতে পারবেন না। সেখানে অবস্থান নির্ণয় করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে তিনটি জিনিসের সাপেক্ষে দূরত্ব নিতে হবে।

একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি ক্লিয়ার হবে। ধরা যাক, আপনার বন্ধু আপনাকে ফোনে জানালো যে সে জাতীয় সংসদ ভবন এর গেইট থেকে সরাসরি ১ কিলোমিটার দূরে আছে (বা কিছু বেশি)। শুধুমাত্র এতটুকু শুনলে আপনি কিন্তু কোনো ভাবেই জানবেন না সে আসলে কোথায় আছে। 

কারণ সে সংসদ ভবন থেকে যে কোনো দিকে ১ কিলোমিটার দূরে থাকতে পারে। তার মানে, সংসদ ভবনের চারপাশে যদি ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি বৃত্ত কল্পনা করা হয় তাহলে সে বৃত্তের পরিধি বরাবর যে কোনো জায়গায় থাকতে পারে।


জিপিএস (GPS) কি কি কাজে ব্যবহার হয় ?

উপর থেকে আমরা জানতে পারছি GPS কি? তাহালে, চলুন এবার আমরা জেনে আসি জিপিএস কোথায় কোথায় ব্যবহার করা হয়।

  • Tracking – যেকোনো পাসোনাল মুভমেন্ট পরিক্ষা নিরক্ষা করা।
  • Mapping – সমস্ত দুনিয়ার ম্যাপ তৈরি করা।
  • Location – একটি অবস্থানকে নির্ধারণ করা।
  • Navigation – একটি স্থান থেকে আর একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।
  • Timing – সময়ের সঠিক ম্যাপ করে নেওয়া।
  • এছাড়াও, বর্তমানে জিপিএস এর ব্যবহার প্রচুর পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রযুক্তির সাথে সাথে।

জিপিএস এর বৈশিষ্ট্য

আমরা যেকোনো প্রাকিতিক দূর্যোগ এর সময় responder গুলো প্রথমে জিপিএস ব্যবহার করে। কারণ, জিপিএস এর মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বভাস করা সম্ভব।

জিপিএস ব্যবহার করে আপনি যেকোনো জিনিসের উপর নজর রাখতে পারবেন। এই জিনিসটা কোথায় যাচ্ছে এই বিষয়ে তথ্য পেয়ে যাবেন।

GPS প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনারা যেকোনো জায়গার রাস্তা, হোটেল, জায়গা ইত্যাদি খুব সহজে খুঁজে বের করতে পারবেন। তাছাড়া এটাই আপনাকে নিদিষ্ট গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাবে।

আপনারা নিজের কাছে জিপিএস রেখে নিজের শারীরিক কার্যকলাপ গুলোকে ট্র্যাকিং করতে পারবেন। যেমন- দিনে কত মিটার হাঁটলেন, কত সময় দাঁড়ালেন, কত সময় দৌড় দিলেন ইত্যাদি।

নিজেদের বাইক (bike), ক্যার (car) এ জিপিএস ডিভাইস ব্যবহার করে চুরির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন। আপনাদের গাড়িতে যদি এই ডিভাইন লাগানো থাকে তাহালে, গাড়ি চুরি হলেও গাড়ি কোন লোকেশনে আসে সেটা দেখে নিতে পারবেন।

বর্তমানে আমরা জিপিএস গুলো আমাদের হাতে থাকা এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন, ঘড়ি, পিসি গেম গুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আমরা অনেক সহজে এ গুলোকে ব্যবহার করতে পারছি।

আপনারা যদি অজানা কোনো দেশ বা শহরে ঘুরতে যান, তাহালে এই জিপিএস এর সাহায্যে জাগয়া, রাস্তা গুলো সহজে নির্নয় করতে পারবেন।

আপনারা হয়তো জিপিএস এর বৈশিষ্ট্য গুলো ব্যাপারে অনেক সহজে বুঝতে পারছেন। এছাড়াও জিপিএস এর আরো বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো আপনারা ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন।


জিপিএস কি ইন্টারনেট ছাড়া চলে?

প্রকৃতপক্ষে জিপিএস সিগন্যাল রিসিভ করার জন্য আপনার ফোনে ইন্টারনেট কানেকশন থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শুধুমাত্র গ্রাফিক্যাল ম্যাপ ডাউনলোড হওয়ার জন্য আপনার ইন্টারনেট দরকার হয়। তাই আপনি যদি গুগল ম্যাপ এর কোনো অংশ অফলাইনে ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করে রাখেন তাহলে পরবর্তিতে ইন্টারনেট ছাড়াই জিপিএস অন করে আপনার নিজের লোকেশন দেখতে পাবেন।

আমেরিকা যদি জিপিএস বন্ধ করে দেয় ?

জিপিএস হলো লোকেশন নির্ণয় করার একটা সিস্টেম মাত্র। জিপিএস ছাড়াও লোকেশন জানার অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতি আছে। তবে ওইগুলো বেশি প্রচলিত না, আবার জিপিএসের মতো এতো শক্তিশালীও না।

আগেই বলেছি, জিপিএস এর মালিক হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যদিও তারা এটা সারা পৃথিবীর জন্য উন্মুক্ত করে রেখেছে, কিন্তু তারা চাইলেই (হতে পারে যুদ্ধ বিগ্রহের মতো পরিস্থিতিতে) এটা বন্ধ করে দিতে পারে।

তাই রাশিয়া এরকম জিপিএসের মতো সিস্টেম ডেভেলপ করেছে যার নাম দিয়েছে তারা GLONASS। আজকাল স্মার্টফোনের স্পেসিফিকেশনে দেখতে পাবেন Location: A-GPS with GLONASS। এর মানে হচ্ছে ফোনটি আমেরিকার জিপিএস ও রাশিয়ার গ্লোনাস উভয় সিস্টেমেই লোকেশন বের করতে পারে।

এছাড়া চীন বিডিএস নামে ও ইউরোপ গ্যালিলিও নামে তাদের নিজস্ব পজিশনিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে।

আবার মোবাইল ফোন সেবাদাতা কোম্পানিগুলো আপনার ফোন কোন টাওয়ার থেকে কত দূরে আছে তার ওপর ভিত্তি করেও আপনার অবস্থান জেনে নিতে পারে। একই ভাবে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও অবস্থান নির্ণয় করা যায়।

জিপিএস ট্রাকার কি? (what is GPS tracker)

জিপিএস ট্রাকার বা জিপিএস ট্র্যাকিং হলো একটি  navigation device যেটা আমরা ব্যবহার করি গাড়ি, পশু ও মানুষ ইত্যাদি চলন্ত জিনিসের জন্য। এরপরে Global positioning system এর মাধ্যমে ডিভাইসটির লোকেশন বের করা হয়।

এই ডিভাইসের ব্যবহার করার ফলে আমরা আমাদের বাইক সহ অন্যান্য গাড়ি গুলো কোথায় চলাচল করছে সেটা সহজে দেখে নিতে পারবেন। তাছাড়া, এটাকে অনেক ক্ষেত্রে পশু, পাখির উপর নজর রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়।

শেষ কথা,,

আজকে আমরা জানতে পারলাম জিপিএস কি ? জিপিএস কাকে বলে এবং এর সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য। আশাকরি, what is gps in bangla আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লাগছে। ভালো লাগলে অবশই শেয়ার করবেন ।

আরো পড়ুন:

  1. আই ফোন সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত কোনো 
  2. প্রসেসর কি 
  3. বাংলাদেশে dslr ক্যামেরার দাম 
  4. সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং কি ?
  5. বিশ্বের সেরা 11টি জনপ্রিয় অনলাইন মোবাইল গেম
  6. নতুন গেমিং ল্যাপটপ 2022
  7. নতুন গেমিং পিসি 2022 |
  8. ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের মধ্যে ভালো ফোন 
  9. কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কম্পিউটারে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি ?
  10. 10000-এর নীচে সেরা ফোন 


0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments