অ্যামাজন কি ? আমাজন এর মালিক কে ?



অ্যামাজন কি ? আমাজন এর মালিক কে ?


অ্যামাজন এর মালিক কে ? এবং অ্যামাজন কোম্পানির ইতিহাস কি ? আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। 


আমাদের ডিজিটাল যুগের সবথেকে বড় অবদানের মধ্যে একটি হল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, যা গ্লোবাল শপিংয়ের ধারণাকে একেবারে আমূল বদলে দিয়েছে। 


আর, এই ই-কমার্সের জগতের জায়ান্ট হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত হল অ্যামাজন (Amazon)অ্যামাজন.কম হল এক ব্যাপক ইন্টারনেট-ভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ।


বর্তমান এই ডিজিটাল যুগে আমরা সকলেই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধণের প্রডাক্ট বা পণ্য গুলো ক্রয় করতে পছন্দ করি। তার জন্য আমরা বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট কেনা কাটা করে থাকি।

বর্তমান সময়ে বিশ্বে হাজার হাজার ই-কমার্স সাইট আছে। যার মধ্যে জানপ্রিয় কিছু ওয়েবসাইট হলো Evaly, Daraz Amazon ইত্যাদি।

আমরা উক্ত এই সকল ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো থেকে অনলাইনে কেনা কাটা করতে পছন্দ করি। আমাদের দেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় সাইট হলো আমাজন।

আপনি যদি আমাজন সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আপনাকে আমাজন কি এই বিষয়ে জানতে হবে। তাই আমরা এই পোস্টে আমাজন এর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রদান করব। যা আপনার অনেক কাজে লাগবে।


অ্যামাজনের ইতিহাস – (History of Amazon):

১৯৮৪ সালে বেজোস ফিজিক্স বা অঙ্ক বিষয়ের উপর নির্ভর করে, নিজের কেরিয়ার গড়ে তুলতে চাইলেও, পার্শিয়াল ডিফারেনশিয়াল সমীকরণের একটা অঙ্কে আটকে যাওয়াই বদলে দেয় তাঁর সিদ্ধান্ত। 


পরে, ১৯৮৬ সালে তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকম্পিউটার সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। 

এরপর, তিনি ওয়াল স্ট্রিট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক ডি.ই.শ অ্যান্ড কোং-এ নিযুক্ত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে সেখানকার সর্বকনিষ্ঠ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ লাভ করেন। 

যদিও, ফিনান্স সেক্টরে বেজোস যথেষ্ট লাভজনক কর্মজীবনে নিযুক্ত ছিলেন, তবুও তিনি ই-কমার্সের সাথে যুক্ত হওয়ার একটা সুযোগ খুঁজছিলেন, যেটা তখনও এতটা ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়নি। 

নিজের একটা ই-কমার্স কোম্পানি খোলার জন্যেই ১৯৯৪ সালে, যখন তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন, তখন তিনি সিয়াটলে চলে যান।

ওখানে ভাড়া বাড়ির গ্যারাজে ইন্টারনেট বাজারের অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে ব্যবহার করে একটি অনলাইন বইয়ের দোকান খোলেন।


যদিও, তখন এটা অতিমাত্রায় একটা ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, খুব দ্রুতই তাঁর এই অনলাইন ব্যবসা সফলতার মুখ দেখে। 

ঠিক, ১৯৯৪ সালেই বেজোসের তৈরী করা এই ই-বুক কোম্পানি অ্যামাজন.কম নামে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।আর, ঠিক এইভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যামাজন কোম্পানির।


অ্যামাজনের সংগ্রাম ও সাফল্য – 


১৯৯৭ সাল: জনসাধারণকে যুক্ত করা হয়

অ্যামাজন প্রতি শেয়ারে $১.৯৬ মূল্যে, প্রায় $৩০০ মিলিয়ন মূল্যায়নের সাথে সর্বজনীন করা হয়েছে (পরবর্তীতে স্টক ভাগ হওয়ার পরে  $১৮-এ সামঞ্জস্য করা হয়েছে)। 


আপনাকে যদি ১৯৯৭ সালে অ্যামাজন শেয়ার $১০০০ আইপিওতে বিনিয়োগ করতে হতো, তবে ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ সেই শেয়ারগুলোর মূল্য হয়েছিল $১১৩৭০০০-এর বেশি। 

অ্যামাজনের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের সাথে, এর কিছু বৃহত্তর প্রতিযোগীর নিশানাতেও পড়তে হয়, যথা- বার্নস এন্ড নোবেল, ওয়ালমার্টের মতো কোম্পানিগুলো প্রকাশ্যেই এই ই-কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে।

১৯৯৯ সাল: অ্যামাজন তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের অনুমতি দেয়-

অ্যামাজন ব্যবসার সম্পূর্ণ নতুন একটা কাঠামো তৈরী করে। এই সময় থেকে এই কোম্পানি তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের সাইটের মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য কেনাবেচার অনুমতি দেয়।যাতে, এখান থেকে ভোক্তারা বিরল, অনন্য আর বিশেষ আইটেমগুলো খুঁজে পেতে পারে। 

ফলবশতঃ, আমাজন তৃতীয় পক্ষ বিক্রির অনুমতি দেওয়ার, মাত্র চার মাসের মধ্যেই এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৫০০০০-এরও বেশি হয়ে ওঠে।

২০০৫ সাল: উদ্ভাবনী লয়াল্টি প্রোগ্রাম “প্রাইমিং”

২০০৫ সালে জেফ বেজোস একটি কাস্টমার লয়াল্টি প্রোগ্রাম ঘোষণা করেন।যেখানে বলা হয় যে, যেকোনো অর্ডারে বিনামূল্যে দুই দিনের মধ্যে পণ্য শিপিং করা হবে ও আরও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হবে, তবে তার জন্যে কাস্টমারদেড় প্রতি বছর $৭৯ দিতে হবে। এই প্রাইম আমাজনকে বিশাল সাফল্য এনে দিয়েছে।

বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে এই কোম্পানির প্রায় ১১২০ লক্ষেরও বেশি সদস্য আছে।

অ্যামাজন প্রাইম শুরু হওয়ার সাথে-সাথেই এটি গ্রাহকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ও তারা লয়াল কাস্টমারে পরিণত হয়। 

বেজোস প্রথম দিক থেকেই অ্যামাজনের গ্রাহকদের সুবিধা ও চূড়ান্ত সন্তুষ্টির উপর নজর রেখেছিলেন।আর, প্রাইম সেই ধারণাটিকেই বাস্তবে রূপান্তরিত করে। 


অর্থাৎ, প্রাইম মেম্বারশিপ পণ্যগুলোর উপর যে বিশেষ ছাড় বা সুবিধা দেয়, এমনকি টিভি কিংবা সঙ্গীতসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করে; তা কেবলমাত্র গ্রাহকদের পরম সন্তুষ্টি প্রদানের জন্যই করা হয়েছে। 


অ্যামাজন কি ? (What is Amazon)

অ্যামাজন হলো- আমেরিকান একটি ইলেক্ট্রনিক বাণিজ্য কোম্পানি। এটির সদর দপ্তর হলো আমেরিকা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে।


বর্তমান সময়ে, আমাজন আমেরিকা সহ বিশ্বের অনেক দেশ এর বৃহত্তর ইন্টারনেট ভিত্তিক ‍খুচরা বিক্রেতা নামেও পরিচিত অনলাইন ইকমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন।

উক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলোতে একজন মানুষ এর প্রতিদিন জীবনে যে, সকল পণ্য বা প্রডাক্ট প্রয়োজন হয়। সেগুলো আপনি এখান থেকে ক্রয়ম করতে পারবেন।

আমাদের জানামতে, আমাজন কোম্পানিটি এরকম জনপ্রিয় ও বড় ছিল না। আমাজন ব্যবসা শুরু করার প্রথম ধাপ ছিল একটি বই এর দোকান থেকে।

তারপরে অনেক দ্রুত তারা সুনাম অর্জন করে এটিকে ধিরে ধিরে বড় করে নিয়ে এখন ভালো জায়গায় অবস্থান করছে।

কারণ এই কোম্পানি এখন শুধু বই না এখানে মানুষের প্রয়োজনীয় যে কোন পণ্য বা সেবা গুলো গ্রহণ করতে পারে তাও আবার নিজের ঘরে বসেই।


আপনাকে বুঝানোর বলছি- আপনি যদি আমাজন ই-কমার্স সাইট ব্যবহার করেন। তাহলে আপনি এখানে যা পাবেন সেগুলো হলো-


  • বিভিন্ন ধরণের পোশাক
  • আসবাবপত্র
  • সফটওয়্যার
  • গহনা,
  • সিডি
  • ডিভিডি
  • ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস

বিভিন্ন প্রকার খাবার সহ আরো প্রয়োজনীয় পণ্য সমূহ আমাজন থেকে ক্রয় করতে পারবেন।

1994 সালে বই এর দোকান এর মাধ্যমে আমাজনের ব্যবসা ‍শুরু হয়। এখন আপনি জেনে অবাক হবেন যে, আমাজন শুধু আমেরিকাতে নয় বিশ্বের যে কোন দেশে এটির ব্যবসা চলমান আছে।


সেই সকল দেশ গুলো হলো-

  • ব্রাজিল
  • চীন
  • জাপান
  • অস্ট্রেলিয়া
  • নেদারল্যান্ড
  • মেক্সিকো
  • ইতালি
  • কানাডা
  • জার্মানি
  • আয়ারল্যান্ড
  • স্পেন এবং
  • ভারত সহ আরো অন্যান্য দেশে আমাজন এর বেশ কিছু সার্ভিস চালু আছে।


আমরা আশা করি উক্ত আলোচনা অনসুরণ করে, বুঝতে পারলেন যে, আমাজন আসলে কি? উক্ত আলোচনাতে যদি বিস্তারিত না বুঝেন তাহলে দয়া করে উক্ত লেখা গুলো আরো একবার মনযোগ দিয়ে পড়ুন তাহলে অ্যামজন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন।


আমাজন এর মালিক কে ?

আমাজন কোম্পানির মালিক হলেন- জেফ বেজস, তিনি অ্যামজনের সভাপতি এবং প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান (সিইও)। 1994 সালের 5 জুলাই এ উক্ত অ্যামাজন কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত করেন।


2021 সালে জেফ বেজস (CEO) পদ ছেড়ে দিয়ে আমাজন কোম্পানির নির্বাহি চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হোন। তিনি 27 বছর উক্ত কোম্পানির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


শেষ কথা :

কেবলমাত্র আমেরিকাতেই নয় বরং ভারতের মতো দেশেরও অ্যামাজনের যথেষ্ট দৌরাত্ম রয়েছে। 

এই কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, এর বর্তমান আয় হল $৪৭৭.৭৪ বিলিয়ন। 

এছাড়াও, বর্তমানে এই ই-কমার্স জায়ান্টে প্রায় ১৬০৮০০০ ফুল ও পার্ট-টাইম কর্মচারী নিযুক্ত রয়েছে। 

এর পাশাপাশি, ২০২২ সালে প্রাইমের মেম্বারশিপ ১৫৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনাও রয়েছে। আমাদের আজকের অ্যামাজন এর মালিক কে এবং এর ইতিহাস নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।






 

0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments