অ্যানিমেশন কি ? এনিমেশন কত প্রকার ও কি কি ?

 


অ্যানিমেশন কি ? এনিমেশন কত প্রকার ও কি কি ? 


আপনি যদি এনিমেশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। তাহলে অনলাইনের বিভিন্ন কাজ করার সময় ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা ইউটিউবিং করেন, তাদের জন্য এই অ্যানিমেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


এনিমেশন এর কাজ করার আগে আপনাকে প্রথমে জানতে হবে, অ্যানিমেশন আসলে কি? তাই আমি এই আর্টিকেল আপনাকে এই সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব।


এরকম ভাবে এনিমেশন তৈরি করার পরে, কম্পিউটার বা প্রজেক্টর এর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। যা দেখতে অনেক ভালো লাগে।


আপনি যদি উক্ত আলোচনাটি অনুসরণ করে থাকেন। তাহলে, অ্যানিমেশন কি এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নিতে পারছেন। যদি না বুঝে থাকেন, তাহলে দয়া করে উক্ত আলোচনা আরো একবার পরে নিন।


অ্যানিমেশনের উৎপত্তি

অ্যানিমেশন শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ Anima থেকে। Animate শব্দ এর অর্থ হচ্ছে প্রাণ দান করা বা আত্মা দান করা

আপনি যখন কোন সফটওয়্যার যেমন মাইক্রোসফট অফিস পাওয়ার পয়েন্ট থেকে কোন ছবি বা টেক্সট ব্যবহার করে কোন চিত্র তুলে ধরেন তাহলে তাকেই এনিমেশন বলা হবে।

পাওয়ার পয়েন্টর মাধ্যমে এনিমেশন তৈরি করলে, আপনি বিভিন্ন একাধিক ছবি যুক্ত করে, আকর্ষণীয় করে ভিডিও মতো এনিমেশন তৈরি করতে পারবেন।

তাই আপনি কোন ছবি দিয়ে যদি কোন এনিমেশন তৈরি করেন, তাহলে সেখানে নরাচরা করার মতো, এনিমেশন গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তাই অ্যানিমেশন কে আত্মা বা প্রাণ দান এর সাথে তুলনা করা হয়েছে।


অ্যানিমেশন কত প্রকার ও কি কি ?

আপনি উক্ত আলোচনায় জানতে পারলেন, অ্যানিমেশন কি, এনিমেশন এর উৎপত্তি সম্পর্কে। এখন আমরা আপনাকে জানাব, অ্যানিমেশন কত প্রকার ও কি কি ?


আপনি উক্ত তথ্য জানতে নিচে দেওয়া ধাপ গুলো দেখুন তাহলে বিস্তারিত জানতে পারবনে।

আমরা ডিজিটাল যুগে অ্যানিমেশন কে পাঁচ ভাগে ভাগ করতে পারি যেমন-


ট্রেডিশনাল এনিমেশন

  • 2D এনিমেশন
  • 3D এনিমেশন
  • মোশন গ্রাফিক্স এনিমেশন
  • স্টপ মোশন এনিমেশন

আপনি উক্ত যে, ৫ টি ভাগ দেখতে পারছেন, এগুলোই প্রত্যেকটি এনিমেশন সিস্টেম। তো চলুন এই বিষয় গুলো বিস্তারিত ভাবে জানতে নিচের ধাপ গুলো দেখি।


ট্রেডিশনাল এনিমেশন

ট্রেডিশনাল এনিমেশন হচ্ছে একধরণের চলচিত্র ট্রেডিশনাল এনিমেশন প্রাচিন রূপ। উক্ত মাধ্যমে আবার সেল এনিমেশন বলা হয়। ট্রেডিশনাল এনিমেশন ছবি গুলো কে সেলুলয়েডের স্বচ্চ কাগজ এর মধ্যে আকা হয়ে থাকে।


এনিমেটেড সিকোয়েন্স তৈরি করা রজন্য এনিমেটকে অবশ্যই সকল ফ্রেমে আকা হয়। এখানে কিছু ফ্লিপ বুকের মতো কাজ করা হয়। ট্রেনিশনাল এনিমেশন প্রায় 2D এনিমেশন এর মতো দেখা যায়। ট্রেনিশনাল এনিমেশন এর জনপ্রিয় উদাহরণ হলো- দ্য লায়ন কিং।


2D এনিমেশন

2D এনিমেশন ট্রেডিশনাল এনিমেশন এর মধ্যে পড়ে, যেমন: বিউটি এন্ড দ্য বিস্ট এর মতো।

এখানে JPG, GIF এর ফরম্যাট এর ছবি গুলো হলো পিক্সেল ছবি। যা ছবির কোয়ালিটি প্রভাবিত হয়। উক্ত ছবি গুরোকে ছোট-বড় করা যায় না এবং এখানে গ্রাফিক্স ও রেজুলেশন নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

ভেক্টর ছবি গুলো ছোট বিন্দুতে পরিপূর্ণ থাকে। যখন গ্রাফিক্স তৈরি করবেন সেই সময় এই বিন্দু গুলো কে যুক্ত করে, সম্পুন্ন ছবি তৈরি করা যায়।


3D এনিমেশন

3D এনিমেশন বর্তমানে কম্পিউটার এনিমেশন করা অনেক সাধারণ একটি ব্যাপার। এখানে হাতে কলমে কোন ছবি না আঁকে গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে ছবি আর্ট করা হয়।


কম্পিউটার এ ছবি আঁকার জন্য একটি টুলস ও 3D এনিমেশন একটি প্রগতিশিল প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। 3D অ্যানিমেশন মুভি’তে এনিমেট’র চরিত্র কে চার দিকে সরানোর জন্য প্রোগ্রাম লেখা হয়।

উক্ত চরিত্র এর সকল অংশ সঠিক জায়গায় থাকলে সেই ছবি কে ডিজিটাল ফ্রেমে বসিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি ফ্রেম এর জন্য একই নিযম অনুসরণ করে কাজ করতে হয়। এখানে কম্পিউটার সকল ফ্রেমের মোশন গণনা করে থাকে।


মোশন গ্রাফিক্স

মোশন গ্রাফিক্স হল ডিজিটাল গ্রাফিক্সের একটি অংশ যা সাধারণত বিজ্ঞাপন, সিনেমার শিরোনাম সিকোয়েন্সের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মোশন গ্রাফিক্সের সাথে সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। অ্যানিমেশনে এই সমস্ত মাল্টিমিডিয়া জড়িত।

মোশন গ্রাফিক্স সাধারণত ব্যবসা-ভিত্তিক অ্যানিমেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। স্টপ মোশন ক্লিয়ারেন্স, পিক্সেলেশন, অবজেক্ট-মোশন, কাটআউট অ্যানিমেশন এবং আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত করে।

তবে এর মূল ধারণাটি একটি ফ্লিপবুকের মতো। অঙ্কন করার পরিবর্তে, স্টপ মোশন প্রতিটি ফ্রেমে পৃথক ছবি সংগ্রহ করে এবং একত্রিত করে।


স্টপ মোশন

স্টপ মোশন অবশ্যই অ্যানিমেটেড গল্প বলার একটি পুরানো রূপ, বিশেষ করে 3D কম্পিউটার অ্যানিমেশনের তুলনায়।


কিন্তু ছবি অ্যানিমেট করার এই পদ্ধতি ডিজনি বা পিক্সারের আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সিনেমা এবং টিভির বাইরে, অ্যানিমেশন ডিজিটাল স্পেসে ব্যবসার জন্য একচেটিয়াভাবে ব্যবহৃত হয়।


বিশেষ করে, ওয়েব/অ্যাপ ডিজাইন এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে অ্যানিমেশন ব্যবহার করা হয়, যা ব্যবসার জন্য দারুণ সুবিধা তৈরি করেছে।


এনিমেশন ভিডিও তৈরি করা সফটওয়্যার

আপনি যদি, কম্পিউটার এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের ভিডিও এনিমেশন তৈরি করতে চান। তাহলে অনেক ধরণের এনিমেশন সফটওয়্যার ডাউনলোড করে, কাজ করতে পারবেন।


আমরা আপনার সুবিধার জন্য এখানে কিছু এনিমেশন তৈরি করার সফটওয়্যার যুক্ত করে দিয়েছে। যে গুলো ডাউনলোড করে সুন্দর সুন্দর এনিমেশন বানাতে পারবনে, এবং অনলাইনে সরাসরি ফ্রিতে এনিমেশন তৈরি করতে পারবেন। যেমন-


  • 3D Max এনিমেশন সফটওয়্যার
  • Adobe After Effect এনিমেশন সফটওয়্যার
  • Flash এনিমেশন সফটওয়্যার
  • Pencil এনিমেশন সফটওয়্যার ইত্যাদি।


এনিমেশন কোর্স কোথায় করবেন ?

আপনি যদি এনিমেশন ভিডিও বা এনিমেশন কার্টুন ভিডিও তৈরি করতে চান। তাহলে আপনাকে এই বিষয়ে একটি ভালো কোর্স করতে হবে।


আপনি বর্তমান সময়ে এনিমেশন শেখঅর জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান পেয়ে যাবেন, সেখানে আপনি ভালো ভাবে এনিমেশন এর কাজ শিখে, একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে, সেখানে এনিমেশন ভিডিও আপলোড করে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।


এছাড়া আপনি যদি এনিমেশন এর কাজ শিখতে চান, তাহলে ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে, ভিডিও কোর্স অনুসরণ করে দ্রুত এনিমেশন কাজ শিখে ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।


ব্যাবসার জন্য অ্যানিমেশন

ব্যবসার জন্য অ্যানিমেশন ব্যবহার করার অনেক উপায় রয়েছে, যা হল –


1. একটি কোম্পানির জন্য একটি প্রচার ভিডিও তৈরি করতে অ্যানিমেশন প্রয়োজন। কারণ, অ্যানিমেশন ভিডিওর ক্ষেত্রে কোনো অভিনেতার প্রয়োজন হয় না। অনেক কম খরচে ভিডিও বানানো যায়।

2. একটি ওয়েবসাইটের লোডিং পৃষ্ঠা তৈরি করতে অ্যানিমেশন প্রয়োজন। এ ছাড়া কোনো ভিজিটর ওয়েবসাইটে এলে অ্যানিমেশনের সাহায্যে ভিজিটর দীর্ঘক্ষণ ওয়েবসাইটে আটকে থাকতে পারে।

3. বিজ্ঞাপনে অ্যানিমেশনের আকর্ষণের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে ব্যানার বিজ্ঞাপন। সঠিক অ্যানিমেশন দিয়ে আপনি দর্শকদের সাথে আপনার সংযোগ বাড়াতে পারেন।

অ্যানিমেশনের ইতিহাস – (History of Animation)

1920 সাল থেকে ইউরোপে বেশ কয়েকটি অ্যানিমেশন স্টুডিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ এই স্টুডিওগুলি তাদের ছবিগুলিতে দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল৷


সে সময় স্টুডিওতে কার্টুনিস্টদের আঁকা ছবি দেখানো হতো। যেসব কার্টুন আগে থেকেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে স্টুডিওগুলোতে জনপ্রিয় ছিল সেগুলোই দর্শকরা দেখতে শুরু করে।


‘টয় স্টোরি’ সম্পূর্ণ কম্পিউটারের সাহায্যে তৈরি একটি অ্যানিমেটেড মুভি। ছবিটি প্রথম অ্যানিমেটেড ফিল্ম হিসেবে মুক্তি পায়। এই ছবি দিয়েই পিক্সার অ্যানিমেটেড ছবির যাত্রা শুরু হয়।

ওয়াল্ট ডিজনির প্রথম অ্যানিমেটেড ছবি, স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য সেভেন ডোয়ার্ফস, টয় স্টোরির আগে 1936 সালে মুক্তি পায়।

এই সিনেমাটি সিনেমা জগতে বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রথম ফ্লিপ বই অ্যানিমেশন জন বার্নস লিনেট দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল। 17 সেপ্টেম্বর, তিনি অ্যানিমেশনের জগতে একটি বড় পরিবর্তন আনেন।

1894 সালে, হারম্যান কেসলার ফ্লিপ বইটি পরিবর্তন করেন। তিনি এর নাম দেন মিউটোস্কোপ।

1896 সালে, হেনরি উইলিয়াম শর্ট ফিলোস্কোপ নামে একটি ফ্লিপ বই প্রকাশ করেন। ফ্লিপ বই একটি ধারক ছিল. ফলে ক্রেতাদের জন্য পাতা উল্টে ছবি দেখতে সুবিধা হবে।


1895 সালে লুমিয়েরের ভাইয়েরা শেষবার সিনেমাটোগ্রাফ আবিষ্কার করেছিলেন। বিশ্বে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়, যার নাম সিনেমা যুগ। কিছুদিনের মধ্যেই মুভিতে বিভিন্ন অ্যানিমেটেড ইফেক্ট যুক্ত হতে থাকে।


শেষ কথাঃ

আজ আমাদের এই আর্টিকেল থেকে শিখতে পারলেন, এনিমেশন কি ? অ্যানিমেশন কত প্রকার ও কি কি?  আপনি যদি উক্ত আলোচনা গুলো অনুসরণ করে থাকেন। তাহলে আপনি এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নিতে পারছেন।


আমাদের আর্টিকেল আপনার কাছে যদি, ভালো লাগে তাহলে একটি কমেন্ট করবেন। আর একটি একটি শেয়ার করে দিবেন।


আরো পড়ুন:

  1. আই ফোন সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত কোনো 
  2. প্রসেসর কি 
  3. বাংলাদেশে dslr ক্যামেরার দাম 
  4. সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং কি ?
  5. বিশ্বের সেরা 11টি জনপ্রিয় অনলাইন মোবাইল গেম
  6. নতুন গেমিং ল্যাপটপ 2022
  7. নতুন গেমিং পিসি 2022 |
  8. ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের মধ্যে ভালো ফোন 
  9. কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কম্পিউটারে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি ?
  10. 10000-এর নীচে সেরা ফোন 


0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments