মোবাইলের ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করার ১০টি কার্যকরী উপায়।



ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি

মোবাইলের ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি কার্যকরী উপায়।

বর্তমানে মোবাইল এমন এক প্রযুক্তি যা ছাড়া আমরা এক মুহুর্ত ও থাকতে পারিনা।আর তার সাথে ইন্টারনেটের কানেকশন দিয়ে আমরা ঘরে বসেই মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত পৃথিবীর খবরাখবর আমরা পেয়ে যাই।কিন্তু দেশের সব জায়গায় ত আর ইন্টারনেট কানেকশন সমান নয়।

তাই অনেক সময় দেখা যায় ফোনে 4G নেটওয়াক থাকার পরও দেখা যায় নেটওয়াক ঠিক মতো কাজ করে না আর করলেও তা 2G নেটয়ার্কের মতো কাজ করে।

অধিকাংশ এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীরা এই অভিযোগ করে থাকেন। তবে তাদের করা এই অভিযোগ একেবারে অর্থহীন নয়।সময়ের সাথে সাথেই এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া এখন একটি প্রচলিত সমস্যায় পরিনত হয়েছে। যা এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের  বিরক্তির কারনে পরিনত হয়েছে।

এক জরিপে দেখা যায়,বেশির ভাগ এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন কেনার পর খুব দ্রুত গতি থাকলেও ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথেই ফোনের ইন্টারনেটের গতি কমতে থাকে।

আর তাই আজ আমি আজ আপনাদের ১০ টি টিপস দিয়ে দেব যে গুলো ফলোকরে আপনারা আপনাদের এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনের হারানো গতি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন। ত চলুন বন্ধরা দেখে নিই এই ১০টি টিপস কিকি।


১. ফোন রিস্টার্ট করুন।

মোবাইলের ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করার প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ফোন রিস্টাার্ট করা।মোবাইল রিস্টার্ট করার পর মোবাইল নতুন নেটওর্য়াক সার্চ করে। তাই এতে মোবাইল নেটওয়ার্কের কয়েক স্পিড বৃদ্ধি পায়।তা ছাড়াও আপনারা চাইলে মোবাইল ডাটা অফ করা আবার পুণরায় অন করতে পারে এতে আপনার ফোনের নেটওয়ার্কের গতি বৃদ্ধি পাবে।

২. মোবাইলের ফ্লাইট মোড অন করুন।

আপনাদের ফোনের ইন্টারনেটের গতি যদি কমে যায় তবে ফোন রিস্টার্ট করা ছাড়াও আপনারা ফোনের ফ্লাইট মোড অন করে আবার অফ করতে পারেন।ফ্লাইট মোড অন -অফ করলে আপনার ফোন আবার নতুন নেটওয়ার্ক খুঁজবে আর যার ফলে আপনার ফোনের নেটওয়ার্কের স্পিড অনেক বেড়ে যাবে।

৩. অপ্রয়োজনীয় এপস গুলো ডিলিট করুন।

মোবাইলের ইন্টারনেট স্পিড বৃদ্ধি করার আরো একটি কার্যকর উপায় হলো আমাদের মোবাইলের সমস্ত অপ্রয়োজনীয় এপস ডিলিট করা।কারন আমাদের ফোনে এমন অনেক এপস রয়েছে যেগুলো ইনস্টল থাকার কারনে আমাদের ফোনের ইন্টারনেটের গতি কমে যায়।

তাই যে এপস গুলো আপনাদের প্রতিদিন কাজে লাগে শুধু মাত্র সেই এপস গুলো বাকি সব এপস আনইস্টল বা ডিলিট করে দিন।এতে ফোনের ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি পাবে।

৪. মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করুন।

আমরা বেশির ভাগ সময়ই নতুন ফোনে পুড়াতন কোন ব্যবহার করা মেমোরি কার্ড ইউজ করি কোন রকম ফরম্যাট ছাড়াই।যার ফলে আমাদের পুড়াতন ফোনে থাকা বিভিন্ন রকম অপ্রয়োজনীয় ডাটা, এপস নতুন ফোনে চলে আসে এতে করে ফোনের নেটওয়ার্ক অনেক স্লো হয়ে যায়।

তাই অবশ্যই ফোনে পুড়াতন মেমোরি কার্ড ব্যবহার করার পূর্বে মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করে নিন। এতে মেমোরি কার্ড যেমন ভাইরাস মুক্ত হবে তেমনি আপনার ফোনের নেটওয়ার্কের গতি ও বৃদ্ধি পাবে।

৫. ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করুন।

ক্লাউড স্টোরেজ করুন ব্যবহার করার একটি বড় সুবিধা হলো এটি ব্যবহার করে আপনি পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকেই আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষন করতে পারবেন।তার সাথে এটি আপনার ফোনের মেমোরিকে ও রক্ষা করে। ২০১৮ সাল থেকেই ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বর্তমানে ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজে ও অনেক বেশি স্টোরেজ রয়েছে যা আপনাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ধারন ও নিয়ন্ত্র করতে পারবে।

৬. সময় মতো ফোনকে আপডেট করুন

নিয়মিত ফোন আপডেট করার ফলে ও কিন্তু আপনার ফোনের ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি পাবে। এন্ড্রয়েড কোম্পানি প্রতিনিয়ত তাদের প্রডাক্ট গুলোর আপডেট করে নতুন ভার্সন নিয়ে আসে।

আর এন্ড্রয়েডের প্রতিটি নতুন ভার্সনই অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে ভালো নেটওয়ার্ক স্পিডের দিকে।তাই আপনার ব্যবহিত ফোনের যদি নতুন কোন আপডেট আসে তবে ফোনটি আপডেট করে নিন। এতে ফোনে নতুন কোন ভার্সন এলে আপনার ফোনের ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি পাবে।

অনেকেই আবার এন্ড্রয়েড ফোন আপডেট করে না কারন তাদের মনে ভুল ধারনা। তাদের ধারনা ফোন আপডেট করলে ফোন আগের তুলনায় আরো বেশি স্লো হয়ে যায়।কিন্তু তাদের এই ধারনা সর্ম্পূণ ভিত্তিহীন। কারন নিয়মিত ফোন আপডেট করার ফলে ফোনের নেটওয়ার্ক স্পিড অনেক বৃদ্ধি পেয়ে যায়।

৭. এপস এর লাইট ভার্সন ব্যবহার করুন।

বর্তমানে ফেসবুক, টুইটারের মতো বেশ জনপ্রিয় এপস গুলোর লাইট ভার্সন রয়েছে গুগোল প্লে স্টোরে। আর এপস গুলোর লাইট ভার্সন গুলো কিন্তু সাধারনত ফোনের গতির গতির দিক চিন্তা করেই ডিজাইন করা হয়।

আর এপস গুলোর লাইট ভার্সন ব্যবহার করার ফলে আপনার ফোনের ইন্টানেটের গতি বৃদ্ধি পাবে। সাথে সাথে আপনার মোবাইল ডাটা ও কম খরচ হবে।

৮. অটো ডাউনলোড আপডেট বন্ধ করুন।

সাধারনত এপস গুলো আপডেট রাখার জন্য ফোনে অটো ডাইনলোড বিকল্প অন করে রাখা থাকে।তবে অব্যশই ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করার জন্য আপনাদের ফোনের এই অপশনটি বন্ধ করে রাখুন।

এটি অফ রাখার ফলে কম ইন্টারনেট ব্যবহার হবে এবং ইন্টারনেটের গতি ও বৃদ্ধি পাবে।

৯. ফোনের কিছু জায়গা খালি রাখুন।

আপনার ফোন স্বাভাবিক ভাবে কাজ করার জন্য আপনার ফোনের মেমোরিতে কিছু স্পেসের প্রয়োজন হয়।আর যখন এই স্পেস টা পাওয়া যায় না ঠিক তখনই ফোনটি স্লো হয়ে যায়, ঠিক মতো কাজ করে না।

আপনার ফোনে কেমন জায়গা বা স্পেস রয়েছে তা জানার জন্য

>> প্রথমে আপনার ফোনের ফোনের সেটিং অপশনে যান।

>> এবার ঐখানে দেখবেন স্টোরেজ লেখা অপশন আছে এতে ক্লিক করে আপনি আপনার ফোনের কতটা স্পেস রয়েছে তা জানতে পারবেন।

যদি দেখেন ফোনের স্পেস কিছু ফ্রি করার প্রয়োজন তবে অবশ্যই যে এপস গুলো তেমন কোন প্রয়োজনীয় নয় সেই এপস গুলো আনইস্টল করে রাখুন এতে ফোন অনেক ফাস্ট হয়ে যাবে।

তাছাড়াও ফোনের Cached data ক্লিয়ার করার চেষ্টা করুন এতে করে ফোন অনেক ফাস্ট কাজ করবে।

১০. ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিং রিসেট করুন।

ফোনের নেটওয়ার্ক যদি ঠিক মতো কাজ না করে বা স্লো হয়ে যায় তবে অবশ্যই ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিং চেক করুন। কারন অনেক সময় দেখা যায় ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিং ঠিক মতো না থাকার কারনে ফোনে নেটওয়ার্ক অনেক স্লো কাজ করে।

তাই যদি এমন সমস্য দেখা দেয় তবে অবশ্যই আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিং একবার রিসেট করে নিবেন।এতে ফোনের নেটওয়ার্কের গতি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

পোষ্টটি সম্পকে যদি আপনাদের কোন কিছু জানার থাকে তবে অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমি ইনশা আল্লাহ আপনাদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনাদের সাহায্য করার চেষ্টা করব।

শেষ কথা

তো  আজ এই পর্যন্তই, আবারো হাজির হয়ে যাব খুব শীঘ্রই নতুন কোন পোষ্ট নিয়ে। এই পর্যন্ত সবাই অনেক ভালো থাকবেন। আর এতক্ষন পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

আল্লাহ হাফেজ।


আরো পড়ুন:

  1. আই ফোন সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত কোনো 
  2. প্রসেসর কি 
  3. বাংলাদেশে dslr ক্যামেরার দাম 
  4. সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং কি ?
  5. বিশ্বের সেরা 11টি জনপ্রিয় অনলাইন মোবাইল গেম
  6. নতুন গেমিং ল্যাপটপ 2022
  7. নতুন গেমিং পিসি 2022 |
  8. ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের মধ্যে ভালো ফোন 
  9. কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কম্পিউটারে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি ?
  10. 10000-এর নীচে সেরা ফোন 



0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments