মোবাইলে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার সেরা ৭টি

 


মোবাইলে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার


ভিডিও এডিট করার প্রয়োজন আমাদের প্রায়শই হয়। আর এজন্য একটি ভালো ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার দরকার। আপনি যদি মোবাইলে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার খুঁজে থাকেন, তাহলে আজকের Best 7 video editing app লিস্টটি আপনার জন্যই।

নিচে আমি সেরা ৭ টি মোবাইলে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার সম্পর্কে আলোচনা করবো,যেগুলো আপনি ফ্রীতে google play store থেকে ডাউনলোড করতে পারেবন।(হয়তো কিছু pro ফিচারস এর জন্য আপনাকে  pay করতে হতে পারে)। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং করতে এই অ্যাপসকে কাজে নিচ্ছেন। 


১ । ভিভাভিডিও-Vivavideo


ভিভাভিডিও অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। এটি একটি খুব মাঝারি মানের ভিডিও এডিটর। এটি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছোট ছোট ক্লিপগুলোর জন্য বেশ ভাল কাজ করে।

এখানে ২০০টিরও বেশি ভিডিও ফিল্টার এবং অন্যান্য ইফেক্ট, টেক্সট ইনপুট রয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফাস্ট এবং স্লো করতে পারবেন।

ভিভাভিডিওর যদিও একটি একটি ফ্রি ভার্সন রয়েছে, তবে ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক আসবে। তাছাড়া, ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করলে বড় ভিডিও এডিট করতে পারবেন না। সকল সুবিধা সম্বলিত যেকোনও ভিডিও এডিট করার জন্য আপনাকে প্রো ভার্সন কিনে এই বিধিনিষেধগুলি সরাতে হবে।


২ । পাওয়ার ডিরেক্টর-Power Director


পাওয়ার ডিরেক্টর এই তালিকার অন্যতম সেরা ভিডিও এডিটর অ্যাপ। যারা প্রায়ই ভিডিও এডিট করেন তাদের জন্য নিশ্চয়ই অ্যাপটি পরিচিত। এটি একটি বাস্তব ভিডিও সম্পাদক, বিশেষ করে ক্রোমবুক বা ট্যাবলেটের মতো বড় পর্দার জন্য সেরা এডিটর।

এটি দ্রুত সম্পাদনা টুলস, বিভিন্ন ইফেক্ট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সহ হাজারটি ফিচার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। ইন্টারফেসটি কাজ করার জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ এবং এটি ক্লাসিক টাইমলাইন এডিটর পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ফ্রি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার টি কোলাজ মেকিং, স্লো মোশন এর মতো জিনিসগুলোও সাপোর্ট করে।


৩ । অ্যাকশন ডিরেক্টর-Action Director


অ্যাকশন ডিরেক্টর পিসির অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। ভালো খবর হলো এটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জন্যও পাওয়া যায়। মোবাইল ভার্সন সফটওয়্যার দিয়ে কিছু মৌলিক কাজ করা যায়। সফটওয়্যারটি দিয়ে ভিডিও ক্লিপ যোগ করা, সম্পাদনা করা এবং ভিডিও রেন্ডার করা যায়।

আপনি আপনার নিজের সঙ্গীত যোগ করা, ভিডিও ছাঁটা এবং কাটা, টেক্সট যোগ করা, ধীর গতিতে কাজ করা এবং আরও অনেক কিছুই এই ভিডিও এডিটর দিয়ে করতে পারেন।

এটি মাত্র কয়েকটি ভিডিও এডিটর অ্যাপের মধ্যে একটি যা 4K ভিডিও সমর্থন করে। তবে আপনার ডিভাইসটি এটি 4K সাপোর্ট করে কিনা তা আপনাকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।


৪ । ফিল্মমেকার-Filmmaker


বর্তমানে পাওয়া সেরা ফ্রি ভিডিও এডিটর অ্যাপের মধ্যে মুভি মেকার সফটওয়্যার হলো ফিল্মমেকার। আপনি ভিডিও কন্টেন্ট ট্রিম, ক্রপ এবং পুনর্বিন্যাস করার পাশাপাশি ফোকাল পয়েন্ট সেট করতে পারবেন।

অ্যাপটিতে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ইফেক্ট রয়েছে, পাশাপাশি আপনি আপনার নিজস্ব কাস্টম ফিল্টার ডিজাইনও করতে পারবেন, যদিও সেই কার্যকারিতা খুব বেশি শক্তিশালী নয়।

সফটওয়্যারটিতে সংগীত/অডিও যুক্ত করার মতো অন্যান্য বেসিক ফিচারও রয়েছে। অ্যাপটি প্রথমবার পাবলিশ হওয়ার পর থেকেই কিছু বাগ সমস্যার সাথে লড়াই করেছে, কিন্তু এটি এখন বেশি ভাল ভিডিও এডিটিং অ্যাপস। মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার টি পাচ্ছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

মেইন ফিচার:

  • টেক্সট অ্যানিমেশন
  • ট্রান্জিশন ভিডিও এডিটর
  • ব্লেন্ডিং মোড মুভি মেকার
  • ভিডিও কনভার্টার


৫ | ফিলমোরাগো ভিডিও এডিটর


FilmoraGo একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং অসাধারণ ক্ষমতা সূম্পর্ণ ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার।এই এপপ্স টি বহু ইউসার কে খুশি করতে সক্ষম হয়েছে।এখানে আপনি সমস্ত প্রাইমারি ফাঙ্কশন যেমন টাইটেল যোগ,কাঁটছাট করা,গান বা মিউজিক যুক্ত করা ইত্যাদি এই সব কাজ খুব সহজে করতে পারবেন।

আপনি এখানে ১:১ রেশিও ভিডিও Instagram এর জন্য এবং ১৬:৯ রেশিও ভিডিও Youtube এর জন্য বানাতে পারবেন।ভিডিও তে ট্রান্সিশনস, স্লো মোশন, টেক্সট ইত্যাদি যুক্ত করে ভিডিও র মান আরো সুন্দর করা হয়।

FilmoraGo অ্যাপস এর মধ্যে কিছু প্রো features আছে সেগুলো এপপ্স এর মধ্যে কিনতে হয়, তবে এর বেশিরভাগ features গুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।আপনি ভিডিও এডিট করার পর গ্যালারি তে সেভ করতে পারেন  অথবা ডাইরেক্ট কোনো সোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট শেয়ার করতে পারেন।FilmoraGo বর্তমানে সেরা এন্ড্রয়েড মোবাইলে ভিডিও এডিটিং app বলা যেতে পারে।

এর একটি নেগিটিভ দিক হলো ভিডিওর শেষে একটি wordmak আসবে তবে আপনি উপগ্রড করে সেটি মুছে ফেলতে পারেন।


Special Features

  • আপনি ক্লিপ্স এর রিয়ালটাইম প্রিভিউ দেখতে পাবেন।
  • ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে ভিডিও বা ফটো ডাইরেক্ট ইম্পোর্ট করার সুবিধে আছে।
  • টেম্প্লেটস এবং ইফেক্টস এর ব্যাপক কালেকশন আছে।
  • এক ঝাক  প্রফেশনাল টুল মুজুত রয়েছে। 


৬- অ্যাডোবি প্রিমিয়ার ক্লিপ


অ্যাডোব প্রিমিয়ার ক্লিপ আরেকটি অসাধারণ ক্ষমতা সূম্পর্ণ ভিডিও এডিটিং এপপ্স।এই এপপ্স এর সাহায্যে খুব তাড়াতাড়ি ভিডিও এডিট হয় এবং এর সার্ভিস খুব ভালো।অ্যাডোব প্রিমিয়ার এর সবথেকে সেরা বৈশিষ্ট হচ্ছে এর অটোমেটিক ভিডিও ক্রিয়েশন ফাঙ্কশন (automatic video creation)। 

এই feature দ্বারা যেকোনো ফটো বা ভিডিও ক্লিপ সিলেক্ট করে অটোমেটিকলি ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন।তাছাড়া,আপনি এখানে এক সঙ্গে অনেক গুলো ভিডিও একসাথে এডিটিং করতে পারবেন,যথা কাটছাট করা,ট্রান্সিশন যুক্ত করা,music বা গান অ্যাড করা,এফেক্টস,ফিল্টারস ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে।

অ্যাডোব প্রিমিয়ার ক্লিপ সম্পূর্ণ ফ্রীতে ডাউনলোড করতে পারবেন।


৭। কাইনমাস্টার-KineMaster


অ্যাপটি দিয়ে আপনি প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। স্মার্টফোন দিয়ে ভিডিও এডিট করেছেন নাকি কম্পিউটার দিয়ে সেটিই আপনার ভিউয়ার্সরা বুঝতেই পারবেনা।

ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার জন্য ভিডিও এডিটিং করতে চাইলে কাইনমাস্টার আপনার জন্য সেরা অ্যাপ। তাছাড়া, কাইনমাস্টার দিয়ে এডিটিং করা অনেক বেশি সহজ।

আপনি এটি কিছুদিনের জন্য ট্রায়াল মোডে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সকল সুবিধা পাওয়ার প্রতিমাসে $4.99 মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

মেইন ফিচার:

  • ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন
  • স্টিকার এবং টেক্সট (Sticker and text)
  • গতি নিয়ন্ত্রণ (Speed Control)
  • আনলিমিটেড লেয়ারের ভিডিও
  • বিভিন্ন সাইজের ভিডিও
  • ভিডিওতে চ্যানেলের লোগো
  • ভিডিওতে ভয়েস ডাবিং
  • ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক
  • Effects
  • স্লাইড শো ভিডিও নির্মাণ
  • ফিল্টার (Filter)
  • ফুল এইচডি ভিডিও সেভ


শেষ কথা,,,

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য সেরা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার লিস্টটি আরো সমৃদ্ধ করতে আপনিও কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। আমাদের তালিকায় উল্লেখ করা সেরা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর বাইরে আপনার জানা অন্য কোনো ভালো ভিডিও এডিটর থাকলে কমেন্ট করে সবার সাথে শেয়ার করুন।




0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments