মূল্যবান কিছু আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

 মূল্যবান কিছু আবিষ্কার ও আবিষ্কারক



''৩৬৫ দিনে এক বছর'' আবিষ্কার করেন এই মুসলিম বিজ্ঞানী



যুগে যুগে মুসলিমরাই বিভিন্ন সভ্যতা এগিয়ে নিতে পথ দেখিয়েছেন। আধুনিক শাস্ত্রগুলোতে মুসলিমদের অবদান অসামান্য। চিকিৎসা, গনিত, জ্যোতিষশাস্ত্র সব জায়গাতেই তাদের সমান বিচরণ। মুসলমানের অবদান অবিস্মরণীয়। বিভিন্ন শাখায় মুসলমানদের আবিষ্কার না থাকলে এ শাস্ত্রগুলো হয়তো এতখানি সমৃদ্ধ হত না।  
তেমনই একজন মুসলিম মনীষী আল বাত্তানী। আল-বিরুনী গণিতশাস্ত্রে বিশ্ববিখ্যাত ছিলেন। তার গ্রন্থ ‘আল-কানুন আল মাসউদী’ কে গনিতশাস্ত্রের বিশ্বকোষ বলা হয়। এতে জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, ক্যালকুলাস প্রভৃতি বিষয়ের সূক্ষ, জটিল ও গাণিতিক সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত চমৎকার আলোচনা করা হয়েছে। এ গ্রন্থেই তিনি পৃথিবীর পরিমাপ সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে তা আজো প্রতিষ্ঠিত।


 
আর সর্বপ্রথম নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়ে ছিলেন যিনি, তিনি আল বাত্তানী। এক সৌর সৌর বছর ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড হয়। এই পরিমাপ কিন্তু তারই করা। আসল নাম আবু আবদুল্লাহ ইবনে জাবীর ইবনে সিনান আল বাত্তানী। তিনি আল বাত্তানী নামেই বেশি পরিচিত।

আল বাত্তানী

তার সঠিক জন্ম তারিখ জানা যায়নি। তবে যতদূর জানা যায় ৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান তুরস্কের অন্তর্গত "হারান" নামক শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন আল বাত্তানী। আবার অনেক ইতিহাসবিদদের মতে ৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত ‘বাত্তান’ নামক স্থানে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মস্থানের নামেই তিনি বিশেষ ভাবে খ্যাতি লাভ করেন।

তার পিতার নাম জাবীর ইবনে সানান। তিনিও ছিলেন তৎকালীন সময়ের একজন বিখ্যাত পন্ডিত ও বিজ্ঞানী। আল বাত্তানী পিতার নিকটই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। শৈশবকাল থেকেই শিক্ষা লাভের প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। তিনি যে শিল্প কর্মেই হাত দিতেন তা নিখুঁতভাবে শুরু করতেন এবং এর ক্রিয়া,প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন।

টেলিস্কোপ আবিষ্কারের আগে তারকা গুণে হিসাব করতেন তিনি

পিতার নিকট প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি ইউফ্রেটিস নদীর নিকটবর্তী রাক্কা নামক শহরে গমন করেন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পণ্ডিত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন। আল বাত্তানীর বয়স যখন মাত্র ২৫ বছর তখন খলিফা মুতাওয়াক্কিল পরলোকগমন করেন। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক উত্থান পতনের কারণে তরুণ বয়সেই তাকে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তে হয় এবং তিনি সিনিয়র গর্ভনর পদে অধিষ্ঠিত হন। 

রাষ্ট্রীয় কাজের চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি তার জ্ঞান বিজ্ঞান সাধনার কোনো ক্ষতি করেননি। রাজধানী রাক্কা ও এস্টিয়োক থেকে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর গবেষণা চালাতেন। তৎকালীন সময়ে তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিদ ও অংকশাস্ত্রবিদ। জ্যোতির্বিজ্ঞানে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ,নক্ষত্র প্রভৃতির গতি,প্রকৃতি ও সৌরজগত সম্পর্কে তার সঠিক তথ্য শুধু অভিনবই ছিল না। তিনি টলেমী সহ পূর্বতন বহু বৈজ্ঞানিকের ভুলও তিনি সংশোধন করে দেন। সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ সম্পর্কিত টলেমী যে মতবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, আল বাত্তানী তা সম্পূর্ণ ভুল বলে বাতিল করে দিতে সক্ষম হন।

বাষ্প গাড়ির যুগ

বেশীর ভাগ ইতিহাসবিদের মতে  ফ্রান্সের নিকোলাস জোসেফ কুগনট  ছিলেন সত্যিকার অর্থে প্রথম মোটরগাড়ির নির্মাতা। কুগনটের গাড়িটি ছিল বড়, ভারী  এবং তিন চাকা বিশিষ্ট ও বাষ্পে চালিত । ১৭৬৯ সালে তাকে বলা হয় চারজন যাত্রী নিয়ে বিশ মিনিটে ঘণ্টায় ২.২৫ কিমি ভ্রমণ করে, আবার  বিশ মিনিটেই আগের জায়গায় ফেরত আসার জন্য। তিনি কামান চালনায় পারদর্শী ছিলেন তাই তিনি জানতেন কীভাবে ইঞ্জিনের সাথে পিস্টনের শক্ত বা নরম হওয়াটাকে ড্রিল দিয়ে সংযুক্ত করা যায়। পরবর্তীতে কুগনটের এই গাড়ির হুবহু দেখতে একটি মডেল প্যারিসে ‘কঞ্জারভ্যাস্তয়ার ন্যাশনাল ডেস আর্টস এন্ড ম্যাটিয়ার্স’ নামক জায়গায় রাখা হয়।

পরে ইংল্যান্ডে এই গাড়িগুলোর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ১৭৯০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে এই গাড়িগুলোই  চলতো।




অন্য আবিষ্কারকরাও বসে ছিলেন না। তারাও তাদের কাজ করে যাচ্ছিলেন। ১৮০৩ সালে তারা একটি বাষ্প চালিত বাহন বানান যা খুবই জনপ্রিয় হয়।জেমস ওয়াট, উইলিয়াম মুরডক, কর্নওয়াল বাষ্পে চালিত ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করেছিলেন। এদিকে ওয়াট ছিলেন বাষ্প চালিত গাড়ির বানানোর  বিপরীতে । তিনি মনে করতেন  রাস্তায় চলার জন্য এই গাড়িগুলো অনেক ভারী।

রিচার্ড থ্রেভিথিক পরে  মুরডকের কাজটি শেষ করেন।স্যার গোল্ডওয়ারথি  সর্বপ্রথম সফল ভাবে বাষ্প চালিত গাড়ি নির্মাণ করেন।

১৮০৩ সালে ব্রিটেনে প্রথম বাষ্প চালিত মোটরগাড়ি  সফল ভাবে চালিত হয়।লন্ডন থেকে ক্যাম্ব্রিজে ছিল এর রুট।

বিংশ শতাব্দীতে, কুগনটের গাড়ি অনেক ভারী হওয়ায় তারই ধারাবাহিকতায় আমেরিকা, ফ্রান্স, ডেনমার্কে আবিষ্কার করা হয় হালকা বাষ্পীয় যান।

বিদ্যুৎ



বিদ্যুৎ হল আমাদের জীবনের সবচাইতে মৌলিক একটি প্রয়োজন, এটি ছাড়া আমাদের জীবন-যাত্রা যেন থেমে যায়। বিদ্যুত এর আবিষ্কার এর পর থেকে পৃথিবী এক নতুন আলোকিত পথে হাটতে শুরু করেছিল; আজ সে দৌড়াচ্ছে এবং এই গতি বেড়েই চলেছে। পৃথিবীর শুরু থেকেই এই বিদ্যুত এর অস্তিত্ব ছিল।

স্হির বিদ্যুত হিসেবে এটি নানাবার পরিলক্ষিত হয়েছেও বটে। তবে অপেক্ষা ছিল কিছুতাত্ত্বিক ব্যাখার যার মাধ্যমে এই বিদ্যুতকে ব্যবহার্য করে যেন, অনেক অসাদ্য করা যায়। এই বিদ্যুত এর জন্য সাফল্যের বছর ছিলো ১৮৩১ সাল। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে এই বছর বিদ্যুত উৎপাদন এর মৌলক কৌশল সম্পর্কে ধারনা আবিস্কার করেছিলেন। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক আবেশন তত্ত্বের মাধ্যমে বিদ্যুত উৎপাদন শুরু করেন তিনি।

বৈদ্যুতিক বাতি

বৈদ্যুতিক বাতির উপকারিতা সম্পর্কে নতুন করে তেমন কিই বা বলার আছে। এর উপকারিতা বলে শেষ করার মত নয়। রাতের আধার দূর করে বৈদ্যুতিক বাতি শুধু আমাদের চারদিক আলোকিতই করে নি, এটি বরঞ্চ আলোকিত করেছে মানব সভ্যতার ভবিষ্যতকে।
আমরা জানি টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন। তবে শুধু তার হাত ধরেই এটি সম্ভব হয়েছে বললে ভুল হবে। বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারের পেছনে অনেক বিজ্ঞানীর অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। 




বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের সূত্রপাত ঘটে ইতালীয় বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টার হাত ধরে ১৮০০ সালের দিকে। এরপর হাম্ফ্রি ডেভি নামের একজন বিজ্ঞানী ভোল্টাইক পাইলকে চারকোল ইলেক্ট্রোডের সাথে যুক্ত করে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর কৌশল দেখান। এভাবে বিভিন্ন বিজ্ঞানীর হাত ধরে এগিয়ে যেতে থাকে বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের প্রক্রিয়া।

তবে এই যাত্রার শেষ হয় জোসেফ সোয়ান ও টমাস আলভা এডিসনের হাত ধরে। জোসেফ সোয়ান ১৮৫০ সালের দিকে ভ্যাকুয়াম টিউবের ভেতর ফিলামেন্ট রেখে বাতি জ্বালানোর কৌশল দেখান। ফিলামেন্ট হিসেবে তিনি ব্যাবহার করেন কার্বন যুক্ত কাগজ। তবে সে সময়ে এই ভ্যাকুয়াম টিউবের পদ্ধতি ছিল বেশ ব্যয়বহুল। ফলে তার এ পদ্ধতি শুধু আবিষ্কার হিসেবেই অসাধারণ ছিল দৈনন্দিন জীবনে ব্যাবহারের জন্য নয়।


প্রিন্টিং প্রেস

পঞ্চদশ শতাব্দীর একটি অন্যতম আবিষ্কার হল প্রিন্টিং প্রেস। এটি হল এমন একটি যান্ত্রিক পদ্ধতি যা কোন কাগজ বা কাপড়ের পৃষ্ঠে চাপ প্রয়োগ করে কালি বা রঙ এর একটি আস্তরণ তৈরি করে। এই আস্তরণ হতে পারে কোন লেখা বা কোন নকশা বা চিত্র। আমাদের দেশে কয়েক বছর আগেও এমন পদ্ধতি ব্যাবহার করে লেখা বা চিত্র প্রিন্ট করা হত। তবে এখন মূলত অত্যাধুনিক লেজার প্রিন্টার বা অপটিকাল প্রিন্টার এর ব্যাবহার অধিক।



জোহানেস গুটেনবার্গ কে মূলত প্রিন্টিং প্রেস এর আবিষ্কারক হিসেবে মানা হয়। ১৪৪০ সালের দিকে তিনি এটি আবিষ্কার করেন। তিনি ছিলেন জার্মানির অধিবাসী এবং পেশায় একজন স্বর্ণকার। অবশ্য প্রিন্টিং এর ইতিহাস শুরু হয় আরও অনেক আগে থেকেই। গুটেনবার্গের এই আবিষ্কারের প্রায় ৬০০ বছর পূর্বে চীনা সাধকরা ব্লক প্রিন্টিং নামের একটি পদ্ধতির আবিষ্কার করেন। এ পদ্ধতিতে কাঠের তৈরি কোন ব্লকে কালি লাগিয়ে কোন কাগজের পৃষ্ঠে নকশা বা লেখা প্রিন্ট করা হত। এ পদ্ধতির প্রচলন অষ্টম শতকে কোরিয়া এবং জাপানেও প্রচলিত ছিল। এরপর এশিয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে চীনে ধীরে ধীরে বিকাশ ঘটতে থাকে প্রিন্টিং পদ্ধতির। 


এছাড়া পঞ্চদশ শতাব্দীতে জাইলোগ্রাফি নামক আরেকটি প্রিন্টিং পদ্ধতি প্রচলিত ছিল ইউরোপে। এটিও ছিল খানিকটা চাইনিজ সন্ন্যাসীদের ব্যবহৃত কাঠের ব্লক পদ্ধতির মতই। তবে সবকিছুর অবসান ঘটে গুটেনবার্গের আবিষ্কারের মাধ্যমে। তিনি এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা দিয়ে হাতে হাতে প্রেসিং করে মুদ্রণ করার বদলে একটি মেকানিক প্রেসিং করা যেত। তার এই যন্ত্রটি এসেম্বলি লাইন পদ্ধতি ব্যবহার করত যা ছিল হাতে প্রিন্টিং এর চেয়ে অধিকতর দক্ষ। ফলে পূর্বের চেয়ে উন্নত ও দ্রুত প্রিন্টিং এ যন্ত্রটি ছিল অনেকটাই এগিয়ে।


কম্পিউটার

বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হল কম্পিউটার। বলতে গেলে বর্তমান বিশ্ব চলছে এই কম্পিউটারের উপর ভর করেই। আসলে মানব সভ্যতায় কম্পিউটারের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না। যে কাজ গুলো আগে মানুষের করতে মাথার ঘাম ছুটে যেত সেসব কাজ আজ মুহূর্তেই আমরা করে ফেলছি কম্পিউটারের বদলোতে। আবার এমন কিছু কাজ কম্পিউটারের সহায়তায় আমরা করতে পারছি, কম্পিউটার ছাড়া সেসব কাজ কল্পনা করাও কঠিন।



মূলত চার্লস ব্যাবেজ কে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়। তবে কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস প্রায় পাঁচ হাজার বছরে পুরানো। এই আবিষ্কারের সূত্রপাত হয় অ্যাবাকাস নামে এক ধরনের গণনা যন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে। প্রাচীন গ্রীক সভ্যতায় ব্যবহৃত হত এই অ্যাবাকাস নামক গণনা যন্ত্রটি। এরপর উল্লেখযোগ্য গণনা যন্ত্র ছিল জন নেপিয়ারের আবিষ্কৃত নেপিয়ারের বোন যন্ত্রটি। এই যন্ত্রে ব্যবহৃত হত নয়টি ভিন্ন ভিন্ন বোন বা হার যা দিয়ে গুন বা ভাগ করা যেত। এই যন্ত্রেই সর্বপ্রথম দশমিক সংখ্যা-পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।


ইন্টারনেট আবিষ্কার করেন কে ?

ইন্টারনেট আবিষ্কার কে এবং কখন করেছিলেন, এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো সোজা উত্তর দেওয়াটা তেমন সোজা কাজ নয়।

কারণ, ইন্টানেট একটি সাধারণ বা ছোট জিনিস না যেটাকে হটাৎ কেও আবিষ্কার করে দিতে পারতেন।

তবে বর্তমানে আমরা যেই Internet communication protocols system টি ব্যবহার করছি যেটাকে আবার Internet বলে বলা হয় সেটা আবিষ্কার করার কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে Vinton Cerf এবং Bob Kahn নামের এই দুজন ব্যক্তিদের।

ইন্টারনেটের বর্তমান পুনরাবৃত্তির আগে, কম্পিউটারের মধ্যে long-distance networking প্রথম বারের জন্য সম্পন্ন হয়ে থাকে ১৯৬৯ সালে।



এই প্রথম এক্সপেরিমেন্ট (experiment) করা হয়েছিল UCLA এবং Stanford এর দুটো রিসার্চ টীম এর দ্বারা।

তবে, পাশের কম্পিউটারের মধ্যে লগইন করার প্রাথমিক প্রচেষ্টায় সিস্টেম ক্র্যাশ হয়ে যায় এবং তারা অসফল হয়ে দাঁড়ান
এর পর, লিওনার্ড ক্লেইনরকের (Leonard Kleinrock) নেতৃত্বে গবেষকরা, প্রথম two-node network তৈরি করতে সফলতা অর্জন করে থাকেন।
এই পরীক্ষার (experiment) সাথেই packet switching প্রক্রিয়ার প্রথম টেস্ট করা হয়েছিল।
Packet switching হলো সেই প্রক্রিয়াটি যার মাধ্যমে দুটো কম্পিউটারের মধ্যে ডাটার (data) আদান-প্রদান (transfer) করা সম্ভব হয়ে দাঁড়ালো।
Packet switching এর মাধ্যমে information গুলোকে ছোট ছোট ডাটার (data) প্যাকেট “packets” হিসেবে আলাদা করে নেওয়া হয় এবং যা পরে বিভিন্ন চ্যানেল জুড়ে পরিবহন করা হয় এবং শেষে গন্তব্যে (destination) ইনফরমেশন গুলো পুনরায় একত্রিত হয়ে যায়।

তাই, বর্তমান সময়েও কিন্তু প্যাকেট-স্যুইচিং পদ্ধতি ডেটা ট্রান্সফারের ভিত্তি হয়ে রয়েছে।
Cerf এবং Kahn এর দ্বারা ১৯৮০ সালে প্যাকেট সুইচিং এর মাধ্যমে ডাটা পরিবহন বা প্রেরণ করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশিকা গুলো বিকশিত করা হলো।


কাগজ

আমরা মানব সভ্যতা কে বদলে দেওয়া বিজ্ঞানের ১০ টি আবিষ্কারের কথা বলছিলাম। আচ্ছা, এই মানব সভ্যতা বা সভ্যতার কথা ভাবতে গেলে আমাদের মাথায় কোন কথাটি আগে আসে? নিশ্চয়ই শিক্ষা! আর শিক্ষার কথা বলতে গেলে তর্কাতিত ভাবে চলে আসে কাগজের কথা।



কাগজ আবিষ্কারের ইতিহাস প্রায় 2,000 বছর পুরানো। তখন চীনারা কাপড়ের তৈরি চাদর কে বিভিন্ন ধরনের অংকন ও লেখার কাজে ব্যাবহার করত। তবে কাগজ বলতে বর্তমান সময়ে যেটি বুঝি তার আবিষ্কার হয়েছিল চীনের একজন কোর্ট অফিসিয়াল Ts'ai Lun এর হাত ধরে। তিনি তুঁতের বাকল, শাঁস এবং পানি মিশ্রিত করে এক ধরনের মণ্ড তৈরি করতেন। এই মণ্ডকে চাপ দিয়ে পাতলা করে তারপর তা রোদে শুকাতে দিতেন।

অষ্টম শতাব্দীর দিকে কাগজ তৈরির এই পদ্ধতি সম্পর্কে মুসলিম শাসকেরা জানতে পারেন এবং পরবর্তীতে তাদের হাত ধরে ইউরোপে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পরে।

এরপর স্পেনে প্রথম কাগজ কল স্থাপিত হয় এবং ধীরে ধীরে সমগ্র ইউরোপে এরকম অসংখ্য কাগজ কল স্থাপিত হতে থাকে। অবশ্য তখন কাগজ শুধু দরকারি নথি ও বই ছাপাতে ব্যবহৃত হত। সর্বসাধারণের কাছে কাগজ পৌঁছে দেয় মূলত ব্রিটিশরা। ১৫ শতকের দিকে তারা বিশাল পরিসরে কাগজ উৎপাদন শুরু করে এবং উপনিবেশ ভুক্ত দেশগুলোতে ছড়িয়ে দেয়। আর বর্তমানে কাঠ দিয়ে কাগজ তৈরির পদ্ধতিটি এসেছিল আমেরিকানদের হাত ধরে। আর এভাবেই আমরা পাই দৈনন্দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।


টেলিফোন

টেলিফোন আবিষ্কার ছিল বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি কল্পনাতীত অধ্যায়। একবার ভাবুন তো, আমরা আধুনিক যুগে এসেও যখন মোবাইল ফোনে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য-প্রান্তে, দূর থেকে দূরান্তে কারও সাথে কথা বলি, একটু হলেও কি অবাক হই না। তাহলে বুঝুন এই যন্ত্র আবিষ্কারের পর মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল। বিজ্ঞানের এমন অনেক আবিষ্কার আছে যা আবিষ্কারের পূর্বে কাউকে বললে সে নির্ঘাত আপনাকে পাগল বলবে। টেলিফোন আবিষ্কার ছিল তেমনই একটা ব্যাপার।

আলেক্সেন্ডার গ্রাহামবেল কে টেলিফোনের আবিষ্কারক হিসেবে ধরা হলেও এ নিয়ে কিছুটা দ্বন্দ্ব আছে। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল এবং ইলিশা গ্রে উভয়ই ওয়াশিংটনের পেটেন্ট অফিসে ১৮৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেলিফোন আবিষ্কারের পেটেন্ট এপ্লিকেশন জমা দেন। তবে গ্রাহামবেলের আবেদন টি আগে নিবন্ধিত হয়। ১৮৭৬ সালের মার্চে এই পেটেন্টটি নিবন্ধিত হয়। ১৮৭৬ সালের জুনে ফিলাডেলফিয়ার বিশ্ব প্রদর্শনীতে বেল প্রথমবারের মতো এক বিশাল দর্শক উপস্থিতির সামনে তার আবিষ্কৃত টেলিফোন উপস্থাপন করেছিলেন। এই যন্ত্রটি সফলতার সাথে একপ্রান্তে উচ্চারিত শব্দ অপর প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারত।


এন্টিবায়োটিক

দেহের কোন অংশ কেটে গেলে, আঘাতপ্রাপ্ত হলে কিংবা পুড়ে গেলে সে ক্ষতস্থানে রোগজীবাণু সংক্রমণ ঘটায়। এ সকল রোগ কে সংক্রমণ রগ বলে থাকে। আর এই সংক্রমণ রোগের চিকিৎসায় সবচাইতে নির্ভরযোগ্য যে ঔষধ তা হল এন্টিবায়োটিক। এন্টিবায়োটিক হল বিভিন্ন অণুজীব থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিক উপাদান যা রোগ জীবাণুর বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। তবে এটি শুধু ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগের ক্ষেত্রেই কার্যকর, ভাইরাস জনিত রোগের জন্য নয়।



প্রাচীনকালে বিভিন্ন ছত্রাক আর গাছের লতা পাতার নির্যাস দিয়েই মূলত বিভিন্ন সংক্রমণের চিকিৎসা করতো মানুষ। প্রাচীন মিশরীয়রা ময়লা ছাতার মত দাগ পড়ে যাওয়া পাউরুটিকে সংক্রমণ স্থলে লাগিয়ে চিকিৎসা করতো। চীনাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তারা সয়াবিনের ছত্রাক আক্রান্ত বীজ ফোঁড়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করত। গ্রীক ও ভারতীয়দের ক্ষতস্থানের সংক্রমণ দূর করতে ছত্রাক ও বিভিন্ন উদ্ভিদের ব্যবহারের নজির পাওয়া গেছে। এভাবে বিভিন্ন সভ্যতা ও অঞ্চলের মানুষেরা সংক্রমণ রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করত।

জার্মানির শারীরতাত্ত্বিক পল এরলিক ১৯০৯ সালে শরীরের কোনোরূপ ক্ষতি না করেই আর্সফেনামিন নামক রাসায়নিক প্রয়োগে সিফিলিস রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া মারতে সক্ষম হন। আর এরই মাধ্যমে আধুনিক এন্টিবায়োটিকের যাত্রাপথ শুরু হয়।

তবে এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারে যার কথা টি না বললেই নয় তিনি হলেন আলেক্সেন্ডার ফ্লেমিং। তিনি ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। বিভিন্ন উন্নতি সাধনের পর ১৯৪৪ সালে পেনিসিলিন সারা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমান সময়ে এন্টিবায়োটিক চিকিৎসা পদ্ধতির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে।

এই ছিল বিজ্ঞানের ১০ টি আবিষ্কার যা বদলে দিয়েছিল বিশ্বকে। তবে এছাড়াও আরও অনেক আবিষ্কার আছে যা কিনা কোন অংশেই কম নয়। এরকম হাজারো আবিষ্কার আমাদের উপহার দিয়েছে বর্তমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর জীবনধারা। ভবিষ্যতে হয়তো আরও অনেক কিছুই আবিষ্কৃত হবে। বিশ্ব এগিয়ে যাবে আরও সামনে, উন্নতির উচ্চশিখরে।


আরো পড়ুন:

  1. আই ফোন সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত কোনো 
  2. প্রসেসর কি 
  3. বাংলাদেশে dslr ক্যামেরার দাম 
  4. সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং কি ?
  5. বিশ্বের সেরা 11টি জনপ্রিয় অনলাইন মোবাইল গেম
  6. নতুন গেমিং ল্যাপটপ 2022
  7. নতুন গেমিং পিসি 2022 |
  8. ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের মধ্যে ভালো ফোন 
  9. কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কম্পিউটারে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি ?
  10. 10000-এর নীচে সেরা ফোন 


0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments