কম্পিউটার ব্যবহারের সময় যা যা বিষয় জানা দরকার ? What are the things you need to know while using computer ?

 কম্পিউটার ব্যবহারের সময় যা যা বিষয় জানা দরকার ?










আজকের যুগে অফিস-আদালতের কাজ কম্পিউটার ছাড়া যেন ভাবাই যায় না৷ আর বাড়িতেও কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত মানুষ৷ মনিটর থেকে ঠিক দূরত্বে না বসা কিংবা অতিরিক্ত বা কম আলো থেকে হতে পারে চোখের নানা সমস্যা, এমনকি ঘাড় ব্যথাও৷



NO 1---


সব কিছুই নির্ভর করে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ওপর৷ কারণ প্রতিটি মানুষের বসা, স্ক্রিনের দিকে তাকানোর অভ্যাস, স্বভাব ইত্যাদি সবকিছুই আলাদা৷ তাই আলাদাভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে কে, কীভাবে পর্দার সামনে বসে কাজ করতে আরাম বোধ করেন৷ সঙ্গে যাতে হাত নাড়াচাড়া করার ভালো সুবিধা, যথেষ্ট জায়গা থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে৷ তাছাড়া টেবিল এবং চেয়ারের উচ্চতাও লক্ষ্য রাখা জরুরি৷


NO 2---


অনেকেই কম্পিউটারের কাজ করার সময় অভ্যাসবশত ঘরের লাইটটি জ্বালিয়ে রাখেন৷ বাইরে যথেষ্ট আলো থাকলে তো আর ঘরের আলোর প্রয়োজন হয় না৷ তাই নিজেকেই দেখে নিতে হবে কতটা আলো রয়েছে৷ অনেক অফিসেই মাথার ওপরে বিশাল টিউব লাইট থাকে, যাতে অনেকেরই অসুবিধা হয়৷ এক্ষেত্রে টেবিল লাইট ব্যবহার করুন৷ পরামর্শ কোলনন শহরের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রাল্ফ ক্রট-এর৷

NO 3---



কম্পিউটারের বেশি কাছে বসে কাজ করলে তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, বিশেষকরে চোখের৷ বেশিরভাগ মানুষই কম্পিউটারের পর্দা থেকে ৫০ সেন্টিমিটার দূরত্বে বসে কাজ করেন৷ এই দূরত্ব ৭৫ সেমি. হলে সবচেয়ে ভালো হয়৷ পরামর্শ দিয়েছে জার্মানির পেশাদারী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের৷বিগ হাই রেজোলিউশন কম্পিউটারের ক্ষেত্রে অবশ্য এই দূরত্ব ১০০ সেন্টিমিটার হতে পারে৷




অল্প কিচু কথা আপনার জানা দরকার 




কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা তথ্য বা ডেটা প্রক্রিয়া,সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার
করার ক্ষমতা রাখে। কম্পিউটার হল এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা অতি দ্রুত নির্ভুলভাবে বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক ও যৌগিক সমাধান দেয়। 1812 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ডিফারেন্সিয়াল ইঞ্জিন এবং 1833 সালে এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন উদ্ভাবন করে কম্পিউটারের জনক হিসেবে পরিচিত হন। কম্পিউটার বিভিন্ন প্রজন্ম অতিক্রম করে বিশাল আকৃতির কম্পিউটার থেকে ক্ষুদ্র  পামটপ কম্পিউটারে পরিবর্তন ঘটে। আমাদের বর্তমান দিনের কম্পিউটার কে মাইক্রোকম্পিউটার বলে অভিহিত করা হয়। মাইক্রো কম্পিউটার এর চারটি ভাগ ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক ও পাম্প। 


কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ (পার্ট অফ কম্পিউটার)


 কম্পিউটার সাধারণত তিন ধরনের অংশ দ্বারা গঠিত। ... 

 1) ইনপুট ইউনিট 2) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট 3) আউটপুট ইউনিট। 
 


ইনপুট এর মাধ্যমে ডেটা বা ডাটা  কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হয়,  তারপর ওই   ডাটা মূল কার্যকারী
অংশের মাধ্যমে বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট এর মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়ে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পর 
আউটপুট এর মাধ্যমে দেখা যায়। 

 
 
1)  ইনপুট ইউনিট :    যে অংশগুলির মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে সেই অংশগুলোকে
 বলে ইনপুট ইউনিট। মাউস, কিবোর্ড, ক্যামেরা ইত্যাদি ইনপুট ডিভাইস উদাহরণ।

3) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউ:  সমস্ত কম্পিউটার সিস্টেমের হার্ট  বা প্রাণ স্বরূপ হল সি পি ইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট।  সাধারণত 
সিপিইউ  i)  অ্যারিথমেটিক এবং লজিক্যাল ইউনিট ii) মেমরি ইউনিট iii)  কন্ট্রোল ইউনিট এই তিন ভাগে 
বিভক্ত করা হয়। 


i) অ্যারিথমেটিক এবং লজিক্যাল ইউনিট : যেকোনো ধরনের পার্টি গণিত সমীকরণ বা বিভিন্ন যৌগিক ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অ্যারিথমেটিক এবং 
লজিক্যাল ইউনিট দায়বদ্ধ থাকে। 


ii) মেমরি ইউনিট:
মেমরি ইউনিট এ তথ্য ও প্রোগ্রাম ইত্যাদি সঞ্চয় করে রাখা হয়। মেমরি ইউনিট আবার দু'ভাগে বিভক্ত
 a) হচ্ছে প্রাইমারি মেমোরি ও b) সেকেন্ডারি মেমোরি। 

a ) প্রাইমারি মেমোরি : কম্পিউটার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম গুলো মেমোরিতে যে অংশের মধ্যে সঞ্চিত থাকে তাকে বলা হয় প্রাইমারি মেমোরি। সাধারণত প্রাইমারি মেমোরি  রাম (RAM ) এবং রোম (ROM) দুইভাগে বিভক্ত। 


RAM (Random Access Memory) :  বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত তথ্যাদি এবং কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ব্যবহৃত তথ্য এই মেমোরিতে  সঞ্চিত থাকে।  এই মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি পড়া ও লেখা   উভয়ই সম্ভব। RAM মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি উদ্বায়ী অর্থাৎ পাওয়ার সুইচ বন্ধ করা মাত্র এই মেমোরি তে সঞ্চিত তথ্য মুছে যায় বা ডিলেট হয়ে যায়, আর সেভ থাকে না। 


ROM (Read Only Memory) :  কম্পিউটার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি স্থায়ী প্রোগ্রাম গুলি এই 
মেমোরিতে সঞ্চিত থাকে। সাধারণত এই মেমোরিতে কেবল পড়া বা দেখা সম্ভব। এই মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি   অনউদ্বায়ী। অর্থাৎ পাওয়ার সুইচ বন্ধ করা বা না করা সঙ্গে এই মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি মুছে 
যায় না।

 


b ) সেকেন্ডারি মেমোরি : এই মেমোরিতে বিপুল পরিমাণে তথ্যাদি সঞ্চিত করে রাখা যায়। এই মেমোরিতে প্রধানত স্থায়ী এবং ইচ্ছা 
অনুযায়ী সঞ্চিত তথ্যাদি পরিবর্তন করা সম্ভব সেকেন্ডারি মেমোরি মধ্যে হার্ডডিক্স সিডি ডিভিডি ইত্যাদি 
উল্লেখযোগ্য। 


মেমোরি সঞ্চয় ক্ষমতা     Bit, 
                                     Byte =1024 Bit 
                                     Kilobyte (KB) = 1024 Byte
                                     Megabyte(MB) =1024 KB
                                     Gigabyte (GB) =1024 MB 
                                     Terabyte(TB) = 1024 GB



কম্পিউটার কিনতে কত টাকা লাগবে




প্রোডাক্ট এর নাম মূল্য
মাদারবোর্ড (ইনটেল) ৭০০০/-
প্রসেসর (কোরআই-৩, ১০ জেনারেশন) ১১৫০০/-
র‌্যাম ৮ জিবি ৩৫০০/-
হার্ডডিক্স ১ টেরাবাইটের (টোশিবার) ৩৫০০/-
এসএসডি (১২০ জিবি ) ২০০০/-
কেসিং ২০০০/-
এলইডি মনিটর (ডেল) ৬০০০/-
মাউস ৩০০/-
কিবোর্ডে ৫৫০/-
নরমাল স্প্রিকার /মাইক্রোল্যাব-এর সাউন্ড সিস্টেম ৩০০/- / ২৪০০/-
= ৩৬৬৫০/-
= ৩৪৬৫০/-






প্রথমে আসি  মাদারবোর্ড এ আপনি মাদারবোর্ড নিতে পারেন গিগাবাইট এর। যার বর্তমান বাজার ৭০০০/- টাকা।

* দ্বিতীয় নাম্বারে বলব প্রসেসর, প্রসেসর Intel Core i3 10th Gen যার বর্তমান বাজার মূল্য ১২০০০/- টাকা। বাজেটে এই প্রসেসরও নিতে পারেন।

* এরপর আপনি র‌্যাম হিসেবে নিতে পারেন ৮জিবি যার মুল্য ৩৫০০ টাকার মতো।

* এরপরে হার্ডডিক্স। হার্ডডিস্ক নিতে পারে ১ টেরাবাইটের টোশিবার। যার দাম পড়বে ৩৫০০/- টাকার মতো।

* আপনি চাইলে আপনার কম্পিউটারের স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এসএসডি। এই এসএসডি মূলত আপনার পিসিকে আলট্রা ফাস্ট করবে।১২০ জিবি একটি এসএসডি কিনতে আপনার খরচ হবে ২০০০ টাকা ।

* সাধারনত কেসিং এতটা দামি বা ব্র্যান্ডের প্রয়োজন হয় না। তবে কেসিংয়ের দাম পড়বে ২০০০/- টাকার মতো।


 
* এখন আসি মনিটর, আপনি যদি একটি সাড়ে ১৮ কিংবা ১৯ ইঞ্চি স্যামসাং এলজি ডেল এইচপির এলইডি মনিটর নিতে চান তাহলে আপনার খরচ  ৬০০০/-টাকার মতো পরবে।

* একটি মাউস এফোরটেক কোম্পানির নিতে পারেন যার দাম পড়বে ৩০০/- টাকা।

* এফোরটেক কোম্পানির কিবোর্ডে রয়েছে যার দাম পড়বে ৬০০/- টাকা।

* সাউন্ড সিস্টেম বা স্প্রিকার নিতে পারেন চাইলে কমদামিও ৩০০/- টাকায়ও পাবেন আবার আপনার ইচ্ছে মত দামিও নিতে পারেন অথবা সাউন্ড সিস্টেমের জন্য আপনি মাইক্রোল্যাব-এর সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন। যেটির মূল্য পড়বে ২৪০০/- টাকার মত।

এই কম্পিউটার দিয়ে ফটোশপ, ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার প্রিমিয়ার প্রো, থ্রিডি অ্যানিমেশনের কাজও করতে পারবেন। পাশাপাশি ফ্রিলায়েন্সিং ও অফিসিয়াল কাজও করতে পারেন।

এখন চলুন দেখিয়ে দেই চার্ট আকারে কোন আইটেমের কত দাম পড়ল এবং মোট কত টাকা পড়ল পিসি তৈরিতে।






0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments