কম্পিউটারের ইতিহাস ও ইতিকথা | Computer history and history

 কম্পিউটারের ইতিহাস ও ইতিকথা | Computer history and history








কম্পিউটারের ইতিহাস

কম্পিউটারের আবিষ্কার  থেকে  এই সময়কাল পর্যন্ত সময়কে  তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:(ক) প্রাচীন যুগ, (খ) মধ্য যুগ এবং (গ) বর্তমান বা আধুনিক যুগ।


আমরা সবাই অত্যাধুনিক যুগের অধিবাসী। এ যুগের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় যন্ত্র  কম্পিউটার  আধুনিক রূপ কিন্তু একদিনে পায়নি। এর জন্য অনেক সময়  ধরে বিশেষজ্ঞদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। কম্পিউটার নামের এই যন্ত্রটি কোথা থেকে এলো এবং কিভাবে এলো তা জানার আগ্রহ নিশ্চয়ই প্রত্যেক মানুষের  রয়েছে, এবং এটার সম্পর্কৃত বিষয়গুলি জানা অত্যন্ত জরুরী।  

 ডিজিটাল কম্পিটারের প্রথম প্রজন্ম ধরা হয়  ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত । 

১৯৪৬ সালে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন অধ্যাপক একটি কম্পিউটার তৈরী করেন যার নাম  ENIAC, তবে প্রথম মেমোরি যুক্ত কম্পিউটার আবিষ্কার হয় ১৯৪৯ সালে , যার নাম  EDSAC (Electronic Delay Storage Automatic Computer)।   Remington Rand  কোম্পানি ১৯৫১ সালে UNIVAC-1 কম্পিউটার তৈরি করে, যেখানে ভেকুয়্যাম টিউব এর ব্যবহার দেখা যায়। ১৯৫৪ সালে জনপ্রিয় IBM-650 কম্পিউটার তৈরি হয়। 

প্রাচীন যুগ

আজ থেকে প্রায় কয়েক হাজার বছর আগে কম্পিউটারের জন্ম। মূলত চীন দেশে গণনা কাজের জন্য Abacus নামের এক ধরণের গণনা যন্ত্র ব্যবহার করা হতো খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর আগে। আর এই Abacus  যন্ত্রের মাধ্যমে প্রাচীন যুগে নানা ধরনের গণনার কাজ করা হতো। আবার এই Abacus যন্ত্রে গণনা কাজের জন্য কম্পিউটারকে যদি বড় আকারের গণনা যন্ত্র হিসেবে ধরা হয় তাহলে কম্পিউটারের প্রথম চিন্তা ধারার সূত্রপাত এই Abacus-যন্ত্র হতেই এ কথা বলার উপেক্ষা রাখে না।

 

(২) মধ্যযূগ

মধ্যযুগ এ মূলত কম্পিউটার আবিষ্কার এর জন্য গুরুপূর্ণ সময়কাল। এ সময়ে কম্পিউটার এর সকল গুরুপূর্ণ সকল যন্ত্র, আবিষ্কার এর মাধ্যমে কম্পিউটার এর উৎপাদন পক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়। মধ্যযুগে আবিষ্কৃত সকল যন্ত্রের সম্পর্ক আলোচনা করা হল:-


অ্যাবাকাস

Abacus আবিষ্কারের পর হতে পার হয়ে যায় কয়েক হাজার বছর। মানব সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের সকল চিন্তাধারা, জ্ঞান ও জানার ক্ষেত্রও হয়ে উঠে বৃহৎ ও উন্নত। 


প্যাসকেল

প্রথম যান্ত্রিক গণনা যন্ত্র প্যাসকেল তৈরি হয় ১৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে। স্যার ব্লায়াস প্যাসকেল এটা তৈরি করেন। বিজ্ঞানী প্যাসকেলের নামানুসারে এই যান্ত্রিক যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল প্যাসকেলাইন। আর প্যাসকেলাইন যন্ত্রের কার্যকলাপ মূলত Abacus যন্ত্রের মতই। Abacus যন্ত্রটি ছিল চাকতির অপরদিকে প্যাসকেল যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল দাঁতযুক্ত চাকা বা গিয়ার। 


স্টেপড রেকোনার

১৬৯৪ সালের দিকে প্যাসকেলাইন যন্ত্রের কিছুটা উন্নত সংষ্করণ তৈরি করে গটফ্রেড উইলহেম ভন লেইবনিজ এই যন্ত্রের নাম দিলেন  স্টেপড রেকোনার। এরপরে ১৮২০ সালের মাঝামাঝি স্টেপড রেকোনার যন্ত্রকে আরও একটু উন্নত করলেন টমাস দ্যা কোমার। ততদিনে মানুষও বেশ আধুনিক হয়েছে। নতুন নতুন প্রযুক্তির দিকে তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। আর এরই ফলশ্রুতিতে ১৮২১ সালে ঘটে গেল এক বিপ্লব।


ডিফারেন্স ইঞ্জিন থেকে এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিন

চার্লস ব্যাবেজ গণনার কাজ সহজ কারার জন্য একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলো যার নাম দেওয়া হলো ডিফারেন্স ইঞ্জিন। পরে এই গণনাকারী যন্ত্রটিকে আরও আধুনিক করে যার নাম দেওয়া হলো এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিন।
বর্তমানের আধুনিক কম্পিউটারে যে সকল অংশ দেখা যায় বা বিদ্যমান রয়েছে তার সব কয়টি কম্পিউটার এর কার্য সম্পাদনে চার্লস ব্যাবেজের এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে। তাই তার এ অসামান্য অবদানের জন্য চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের আদি পিতা বলা হয়ে থাকে।


টেবুলেটিং মেশিন

ডঃ হারম্যান হলোরিথ ১৮৯০ সালে চার্লস ব্যাবেজের এনালাইটিক্যাল যন্ত্রের সাথে টেবুলেটর যন্ত্র সংমিশ্রণ করে দেন। এই যন্ত্রের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর মধ্যে কাগজের তৈরী পাঞ্চকার্ড ব্যবহার করা যায়, আর কাগজের তৈরী পাঞ্চকার্ডে ছিদ্র করতে পারে ডঃ হারম্যনের আবিষ্কৃত যন্ত্র টেবুলেটর। এর ফলে টেবুলেটর যন্ত্রটি অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ডঃ হারম্যান এর সাফল্য তাকে অনেক উদ্বুদ্ধ করে তুলে। ডঃ হারম্যান এ সাফল্য সরূপ নিজেই টেবুলেটিং মেশিন কোম্পানী নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। টেবুলেটিং মেশিন কোম্পানী টী পরে আইবিএম নামে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার কোম্পানী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

 

(৩) আধুনিক যুগ

এনিয়াক

ডঃ হারম্যানের টেবুলেটর যন্ত্র আবিষ্কারের পর কেটে গেল আরও প্রায় পঞ্চাশ বছর। এই দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে ছোটখাটো পরিবর্তন ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি । ১৯৪৩ সালের শুরুর দিকে পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির জন মশলি ও প্রেসপার একার্ট নামের দুই প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ার প্রথম প্রজন্মের ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরিতে হাত দিলেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে ১৯৪৬ সালের মাঝামাঝি তারা তৈরি করে ফেললেন প্রথম ইলেক্ট্রনিকস ডিজিটাল কম্পিউটার। তার নাম দেওয়া হলো এনিয়াক।


মার্কওয়ান

পৃথিবীর সভ্যতায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় ১৯৪৬ সালের শেষ দিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার হাওয়ার্ড এইকিন নামের একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী তৈরী করে ফেললেন এনিয়াকের চেয়ে কিছুটা ছোট এবং অরেকটু ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেক্ট্রনিকস কম্পিউটার। যার নাম দেওয়া হলো মার্কওয়ান।


ট্রানজিষ্টার

১৯৪৮ সালের শেষদিকে বারডিন, ব্রাটান এবং শকলি নামের তিন প্রতিভাবান আমেরিকান বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করলেন ট্রানজিষ্টার। ফলে কম্পিউটার দিগন্তে সূচিত হলো এক নতুন বিপ্লবের। বাল্ব নির্ভর এনিয়াক এবং মার্কওয়ান কম্পিউটারের জায়গা জুড়ে নিল এই ট্রানজিষ্টার লাগানো কম্পিউটার। এই সময়কার কম্পিউটারের মধ্যে ১৯৪৯ সালের তৈরি এডস্যাকের নাম উল্লেখযোগ্য।

ইউনিভ্যাক ওয়ান

১৯৫১ সালে আমেরিকার রেমিংটন র্যান্ড নামের এক কোম্পানী তৈরি করে ইউনিভ্যাক ওয়ান নামের একটি কম্পিউটার। বাণিজ্যিক ডাটা প্রসেসিং কাজের উপযোগী এই কম্পিউটারটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।


সিলিকন চিপ

স্যার জ্যাক কিলবি ১৯৫৮ সালের মাধ্যমিক পর্যায় এসে আবিষ্কার করেন সিলিকন চিপ। আর সিলিকন চিপের ছোট্ট একটি টুকরোতে স্থাপন করা হয় অনেকগুলো ট্রানজিষ্টর। এই সকল ট্রানজিষ্টর এর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে তৈরি করা হয় অতি সুরু পথ, যাকে বলা হয় সার্কিট। আর এই সার্কিট সংযোজন এর কাজে নাম দেওয়া হলো ইনটিগ্রেটর সার্কিট বা আইসি। আর আইসি বা ইন্টিগ্রেটর সার্কিট দ্বারা কম্পিউটার প্রস্তুতে উৎসাহী হলেন প্রস্তুতকারগণ। পরে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের অনেক উন্নতি হয়। ছোট্ট একটুকরো সিলিকন চিপের উপর ১৯৭১ সালের দিকে অনেকগুলো আইসি বসানো সম্ভব হয়। আর সন্নিবেশিত এ চিপের নাম দেওয়া হলো মাইক্রোপ্রসেসর। বর্তমান সময়ের আধুনিক কম্পিউটার এই মাইক্রোপসেসরের উপর অনেকাংশেে নির্ভরশীল।


ল্যাপটপ কম্পিউটার

তারপর থেকে উদ্যমী মানুষ একের পর এক উন্নতির সোপানে পা রাখতে শুরু করে। একসময় যে কম্পিউটারকে রাখতে হতো বিশাল হলরুমের আকারের বড় একটি ঘরে। আর এখন একটি কম্পিউটারকে সহজেই একটি ছোট্ট টেবিলেই রাখা সম্ভব হচ্ছে। শুধু মাত্র কি তাই ? এই কম্পিউটারকে আমরা সাথে নিয়ে যে কোন স্থানে স্থানান্তর করে আমাদের জরুরী সকল কাজ করতে পারি। এই কম্পিউটারটি এখন ল্যাপটপ কম্পিউটার নামে সকলের কাছে জনপ্রিয় । এটা ছাড়াও আছে হাতের উপর রেখে কাজ করার মতো কম্পিউটার নাম যার পামটপ কম্পিউটার ইত্যাদি। কম্পিউটারের এই ব্যপক পরিবর্তনের সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র সিলিকন চিপস আবিষ্কারের পর থেকে এর ব্যবহারের মাধ্যমে। এভাবেই আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার নামের যন্ত্রটির আধুনিকায়ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হয়তো আরও অনেক কিছুই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

 

কম্পিউটারের আবিষ্কারক কে বা কম্পিউটারের জনক কে?

কম্পিউটার এর আবিষ্কার নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। বেশির ভাগ মানুষ বলেন  চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়। তবে তিনি আধুনিক কম্পিউটার তৈরীর করার জন্য অ্যানালিটিকেল ইঞ্জিন তৈরী করেন। কিন্তু তিনি কম্পিউটার আবিষ্কার কাজটি সম্পন্ন করে যেতে পারেনি। তার পরে স্যার জর্জ হাওয়ার্ড আইকন চার্লস ব্যাবেজ এর অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন ব্যবহার করে প্রথম ইলেক্ট্রিকেল কম্পিউটার MARK-1 তৈরী করেন। এজন্য আইকেন কে প্রথম ইলেক্ট্রিকেল কম্পিউটারের আবিষ্কারক বলা হয়ে থাকে এবং চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে।

 

কম্পিউটারের প্রকারভেদ 

কম্পিউটারের গঠন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী  কম্পিটারের শ্রেণীবিভাগ করা হয়। কম্পিউটার ৩ প্রকার। যথা:-

(১) এনালগ কম্পিউটার 

(২) ডিজিটাল কম্পিউটার

(৩) হাইব্রিড কম্পিউটার

 

১. এনালগ কম্পিউটারঃ এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer) হলো এমন এক ধরণের কম্পিউটার যার মাধ্যমে  ইলেকট্রিক, যান্ত্রিক, বা হাইড্রলিক-এর ভৌত এবং চলমান পরিমাপ মডেল হিসেবে রূপ দেয়া হয়। এনালগ কম্পিউটার সংখ্যার সাথে পরিচালনা করে যা সরাসরি পরিমাপযোগ্য পরিমাণে প্রতিনিধিত্ব করে বা তুলনা করে। যেমন- ভোল্টেজ বা ঘূর্ণন ইত্যাদি।এনালগ কম্পিউটারের উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, গাড়ির মধ্যে থাকা স্পিড মিটার, টেম্পারেচার মিটার, ফুয়েল মিটার ইত্যাদি।

 

২. ডিজিটাল কম্পিউটারঃ বর্তমান সময়ের  সকল কম্পিউটার ডিজিটাল কম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত। ডিজিটাল কম্পিউটার বাইনারি সংখ্যা বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের উপস্থিতিকে ১ এবং অনুপস্থিতিকে ০ দ্বারা প্রকাশ করার মাধ্যমে এটি সকল কার্যক্রম সম্পাদান করে। একসময় ডিজিটাল কম্পিউটারে শুধু যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের কাজ করা হলেও বর্তমানে এটি অনেক জটিল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে। আকার-আয়তন ও ব্যবহারের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ রয়েছে। 

ডিজিটাল কম্পিউটার ৪ প্রকার। যথা:-

  • সুপার কম্পিউটার
  • মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  • মিনি কম্পিউটার
  • মাইক্রো কম্পিউটার

৩. হাইব্রিড কম্পিউটারঃ হাইব্রিড কম্পিউটার হলো এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের মাধ্যমে গঠিত বিশেষ কম্পিউটার। বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজের জন্য হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। এই কম্পিউটারে এনালগ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করে তার ফলাফল ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদর্শন করে । আবহাওয়া অফিস হাইব্রিড কম্পিউটারের সাহায্যে অ্যানালগ পদ্ধতিতে বায়ুচাপ, তাপমাত্রা ইত্যাদি তথ্য পরিমাপ করে পরে তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে গণনা করে আবহাওয়ার সংবাদ প্রচার করে।


বাংলাদেশে কম্পিউটার এর সূচনা 

বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহারের শুরু হয় মূলত ষাটের দশকে এবং নব্বই-এর দশকে তার ব্যাপকতা লাভ করে। ষাটের দশকের মধ্যভাগ থেকে এ দেশে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। ঢাকা-তে ১৯৬৪ সালে স্থাপিত হয় বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) প্রথম কম্পিউটার। এটি ছিল আইবিএম (International Business Machines – IBM) কোম্পানির 1620 সিরিজের একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer)। যন্ত্রটির প্রধান ব্যবহার ছিল জটিল গবেষণা কাজে গাণিতিক হিসাব সম্পন্নকরণ। ষাটের দশকের শেষ দিকে তৎকালীন হাবিব ব্যাংক IBM 1401 কম্পিউটার এবং ইউনাইটেড ব্যাংক IBM 1901 কম্পিউটার স্থাপন করার মাধ্যমে বাংলাদেশে কম্পিউটার এর ব্যবহার এর সূচনা করে।

১৯৭২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ধাপে ধাপে স্থাপন করে  IBM 370, IBM 9100 এবং IBM 4341 নামক বৃহৎ কম্পিউটার।

 

কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা  

কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা দ্রুত বৃহৎ পরিমাণ Data বা তথ্য তৈরী করে সংরক্ষন করতে পারি। কম্পিউটার দ্বারা বিভিন্ন কঠিন কাজ সাফল্যের সঙ্গে সহজে সম্পূর্ণ করতে পারি। সুতরাং বলতেই পারি কম্পিউটার আমাদের কাজের দক্ষতা ও সহজে অনেক কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করে। নিচে কম্পিউটার ব্যবহারের  সুবিধাগুলো আলোচনা করা হল :

গবেষনার কাজে  

কম্পিউটার এর মাধ্যমে  আমরা অনেক তথ্য সংরক্ষন করতে পারি এবং সহজেই কঠিন হিসাব নিকাশ করতে পারি। কম্পিউটার এর দ্বারা গবেষক গন সহজেই তাদের গবেষনার কাজ করে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত দীর্ঘ কাল সংরক্ষন, ও উপস্থাপন করেন।


ইন্টারনেট সুবিধা 

কম্পিউটার ব্যবহারের  সুবিধার একটি বড় অংশ হল ইন্টারনেট।  বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট একটি মূল্যবান যোগাযোগ প্রকিৃয়া। এই ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা বিশ্বের প্রতিটি স্থানের সাথে সহজেই যোগসূত্রে স্থাপন করতে পারছি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিদেশে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে  পারি। এছাড়াও ইন্টারনেট সার্চ করে বিভিন্ন  সিনেমা, নাটক, ওয়েব ভিডিও, গেমস খেলতে পারছি। এটিকে কম্পিউটারের সর্বশ্রেষ্ঠ  সুবিধা বলে গন্য করা হয়।


মাল্টিমিডিয়া

কম্পিউটার এর আর একটি সুবিধা হলো মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস এর ব্যবহার।  এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে গান শোনা,মুভি দেখা,নাটক দেখা, গেমস খেলা ইত্যাদি কাজ সহজেই করতে পারি।

 

তথ্য সংরক্ষন করা 

কম্পিউটারে প্রচুর পরিমাণ তথ্য সংরক্ষন  করে রাখতে পারি আমরা। বিভিন্ন দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলো তাদের বিজনেস, মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ  তথ্যগুলি কম্পিউটারে জমা করে রাখেন। এর দ্বারা তাদের  গ্রাহকদের মূল্যবান  তথ্য সুরক্ষিতভাবে রাখার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার কে গুরুত্বপূর্ণ  মনে করে। 

 

অনলাইন বাণিজ্য

বিশ্বের শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ অনলাইন ব্যবসা প্রসার প্রচার ও বাণিজ্যের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন। তারা কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার এর মাধ্যমে তাদের পণ্যের গুনগত মান বৃদ্ধি, গবেষনা,পন্য কেনা বেচার কাজ করে থাকেন।

কম্পিউটার ব্যাবহারের ফলে অনলাইনে ব্যবসা বাণিজ্য এখন অনেক সহজতর হয়েছে, পাশাপাশি এতে অনেক সময় সঞ্চয় হয়। অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট তাদের গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পন্যের ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকেন যাতে করে তাদের বাণিজ্যক প্রসার ও প্রচার হয়। যার জন্য অনলাইনে কেনাকাটার প্রতি মানুষের চাহিদা এখন অনেক বেশি।


শিক্ষাগত ক্ষেত্রে

কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা ও উন্নত হয়েছে।  সারা পৃথিবীর ৫০ ভাগ  মানুষ এখন কম্পিউটার এর বিভিন্ন  ওয়েবসাইট ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের  শিক্ষাগত জ্ঞান লাভ করছে। বর্তমানে কম্পিউটার ব্যবহারের দ্বারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অনলাইনে শিক্ষাগত কোর্স সম্পূর্ণ করছে খুব সহজে। বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নে কম্পিউটার এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

 

কম্পিউটারের ব্যবহারের অসুবিধা

কম্পিউটার ব্যবহারে সমাজে যেমন অনেক সুবিধা হয়েছে তেমনি ভাবে কিছু সমস্যার ও সৃষ্টি হয়েছে। এবার কম্পিউটার এর কিছু অসুবিধা আলোচনা করা হল :


স্বাস্থ্যের ক্ষতি

দীর্ঘসময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে আমাদের  চোখের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। চোখের পেশিতে চাপ পড়ে যায়  ফলে আমাদের  চোখের ক্ষতি হয়। এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে ঘাড়ে ও মস্তিষ্ক ক্ষতি হতে পারে। তাই আমরা যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি তাদের ৩০ মিনিট পর পর বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন এবং দীর্ঘ সময় কম্পিউটার এর সামনে বসে কাজ না করে, কিছু সময় বিরতি নিয়ে পূনরায় কাজে মনোযোগী হওয়া উচিত। 


পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব

কম্পিউটার তৈরীর প্রক্রিয়া এবং কম্পিউটার উৎপাদন কালে এর বর্জ্য দ্বারা পরিবেশ দূষণ হয়ে থাকে। কম্পিউটারের বিভিন্ন  নষ্ট পার্টগুলি হতে বিষাক্ত উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পরে পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।


শক্তি ও সময় অপচয়

আমরা অনেকে কম্পিউটার এ বিভিন্ন অনলাইনে গেম খেলতে ও দীর্ঘসময় চ্যাট, ভিডিও কলে কথা বলার  জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। এতে আমাদের অনেক সময় ও শক্তি অপচয় হয়। আমাদের  তরুন প্রজন্ম  দিনের বেশিরভাগ সময়ে এখন  সোশ্যাল মিডিয়ায় (যেমন- ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব  ইত্যাদি) বেশি ব্যস্ত হয়ে পরেছে । যা স্বাস্থ্যের জন্য ভীষন খারাপ প্রভাব ফেলে। তাছাড়াও এটা আমাদের  সামাজিক জীবনে ও প্রতিকূল প্রভাব ফেলেছে।


ক্রাইম

বর্তমান সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা বিভিন্ন  খারাপ কাজ ও নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। তারা নানা ভাবে মানুষের বিভিন্ন তথ্য,ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের নাম্বারগুলি হ্যাকিং, করে নেয়। আবার বিভিন্ন  সময়ে বড় বড় শিল্প  প্রতিষ্ঠানগুলির তথ্য চুরি করে তাদের স্বার্থ রক্ষা করে।


ব্যয়বহুল

কম্পিউটার মূলত  একটি ব্যয়বহুল ইলেকট্রিক  যন্ত্র,  যার জন্য ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান গুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় এটি ক্রয়  করা সম্ভব হয়না,ফলে কম্পিউটার সেবা থেকে তারা দুরে থাকে।


0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments