শাওমি ১১টি সিরিজঃ ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ১২০Hz ডিসপ্লে, আরো অনেক কিছু | Xiaomi 11 series price in bd

শাওমি ১১টি এলো ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ১২০Hz ডিসপ্লে নিয়ে 

অসাধারণ ডিজাইনের জন্য মি ১১ সিরিজের ফোনগুলো ইতিমধ্যেই সবার পছন্দের তালিকায় নাম লিখিয়ে নিয়েছে। মি ১১ সিরিজে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে শাওমি প্রকাশ করলো তাদের ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের নতুন তিনটি ফোন স্মার্টফোন – শাওমি ১১টি, শাওমি ১১টি প্রো এবং মি ১১ লাইট ৫জি নিউ এডিশন (এনই)।

মি ১১ লাইট এর চেয়ে মি ১১ লাইট ৫জি নিউ এডিশন এ নতুনত্ব বলতে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৭৭০ প্রসেরের বদলে স্ন্যাপড্রাগন ৭৭৮। এছাড়া মি ১১ লাইটের সাথে এই সদ্য মুক্তি পাওয়া মডেলটির তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।

১৫ সেপ্টেম্বর একটি অনলাইন স্ট্রিমের মাধ্যমে তাদের নতুন দুইটি ফ্ল্যাগশিপ – শাওমি ১১টি ও শাওমি ১১টি প্রো এর ঘোষণা দেয় এই চীনা জায়ান্ট। এই দুইটি ফোনের ঘোষণার সাথে শেষ হতে যাচ্ছে এই এমআই বা মি (Mi)  লাইন-আপের স্মার্টফোন। প্রায় একযুগ ধরে মি (Mi) শিরোনামযুক্ত ফোন বাজারে ছাড়ার পর অজানা কারণে শাওমি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, হালের ক্রেজ শাওমি ১১টি শিরোনামযুক্ত ফোন দুইটি সম্পর্কে বিস্তারিত।

১১টি সিরিজের ফোন হলেও সদ্য লঞ্চ হওয়া ফোনগুলোর মধ্যে আসল পার্থক্য কী? চলুন বিস্তারিত জানি ফোন দুইটির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য সম্পর্কে।

 দুইটির দিকে তাকালে দেখা যাবে অধিকাংশ ফিচার এর ক্ষেত্রে ফোন দুইটিকে একই মনে হতে পারে। দুইটি ফোনে থাকছে ৬.৬৭ ইঞ্চি ফ্ল্যাট এমোলেড স্ক্রিন, যার সাথে আরও রয়েছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট।

অসাধারণ ডিসপ্লের পাশাপাশি দুইটি ফোনেই রয়েছে একই ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ – একটি ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ৮মেগাপিক্সেল ওয়াইড ও ৫ মেগাপিক্সেল টেলি-ম্যাক্রো ক্যামেরা।

এবার কথা বলা যাক ফোন দুইটির বৈসাদৃশ্য নিয়ে। এই ফোন দুটির মধ্যে প্রধান পার্থক্য শুধুমাত্র প্রসেসরের ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রসেসর ম্যানুফ্যাকচারার এর ক্ষেত্রেও। শাওমি ১১টি ফোনটিতে রয়েছে মিডিয়াটেক এর ডাইমেনসিটি ১২০০ প্রসেসর। অন্যদিকে শাওমি ১১টি প্রো তে প্রসেসর হিসেবে দেখা মিলবে… হ্যাঁ আপনি যেরকম আশা করেছিলেন, সেই কোয়ালকম এর স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ প্রসেসর। শাওমি আপনাকে হতাশ করবেনা এখানে!

প্রসেসরে পার্থক্য থাকায় ফিচারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় কম রয়েছে শাওমি ১১টি তে। স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ এর বদৌলতে শাওমি ১১টি প্রো তে ৮কে ভিডিও রেকর্ড করা গেলেও অন্য ফোনটিতে তা সম্ভব নয়। আবার দুইটি ফোনেই ডুয়াল স্পিকার থাকলেও প্রো ফোনটির স্পিকার হারমান কার্ডন দ্বারা টিউন করা।

শাওমি ১১টি শুধুমাত্র ৬৭ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে। অন্যদিকে শাওমি ১১টি প্রো চার্জ করা যাবে অসাধারণ ১২০ওয়াট শাওমি হাইপার চার্জ ব্যবহার করে। অর্থাৎ মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যেই শূন্য থেকে ফুল চার্জ করা যাবে শাওমি ১১টি প্রো! আসলে প্রো বলে এর একটা আলাদা সম্মান তো থাকতে হবে তাইনা?

একনজরে শাওমি ১১টি স্পেসিফিকেশন

একনজরে শাওমি ১১টি স্পেসিফিকেশন

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৬৭ইঞ্চি অ্যামোলেড
  • প্রসেসরঃ মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ১২০০
  • ব্যাক ক্যামেরাঃ ১০৮মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা
  • সেল্ফি ক্যামেরাঃ ১৬মেগাপিক্সেল 
  • র‍্যামঃ ৮জিবি
  • স্টোরেজঃ ১২৮জিবি/২৫৬জিবি
  • ব্যাটারিঃ ৫০০০মিলিএম্প

একনজরে শাওমি ১১টি প্রো স্পেসিফিকেশন

একনজরে শাওমি ১১টি প্রো স্পেসিফিকেশন
  • ডিসপ্লেঃ ৬.৬৭ইঞ্চি অ্যামোলেড
  • প্রসেসরঃ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮
  • ব্যাক ক্যামেরাঃ ১০৮মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা
  • সেল্ফি ক্যামেরাঃ ১৬মেগাপিক্সেল 
  • র‍্যামঃ ৮জিবি/১২জিবি
  • স্টোরেজঃ ১২৮জিবি/২৫৬জিবি
  • ব্যাটারিঃ ৫০০০মিলিএম্প

শাওমির এই টি (T) সিরিজের মূল লক্ষ্যই থাকে নজরকাড়া দামে অসাধারণ ফিচার প্রদান করা৷ তারই অংশ হিসেবে শাওমি ১১টি পাওয়া যাবে ৪৯৯ইউরোতে। অন্যদিকে শাওমি ১১টি প্রো এর দাম ৫৯৯ইউরো।

এই নতুন ফোনগুলোতে ৩বছর পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম আপডেট এর পাশাপাশি ৪বছর পর্যন্ত সিকিউরিটি আপডেট প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে শাওমি।

0/পোস্ট এ কমেন্ট/Comments